ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন অবশেষে দেশে ফিরল। চোল রাজবংশের একাদশ শতাব্দীর অত্যন্ত মূল্যবান এক সেট তাম্রলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে তুলে দিল নেদারল্যান্ডস।
রবিবার (১৭ মে) এনডিটিভি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘লেইডেন প্লেটস’ নামে পরিচিত এই তাম্রলিপিগুলো চোল সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। ভারত ২০১২ সাল থেকেই এগুলো ফেরত চেয়ে আসছিল।
নরেন্দ্র মোদি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে শুক্রবার নেদারল্যান্ডসে পৌঁছান। তার চলমান পাঁচ দেশ সফরের তালিকায় সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালিও রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘একাদশ শতাব্দীর চোল তাম্রলিপি নেদারল্যান্ডস থেকে ভারতে ফিরছে। এটি প্রতিটি ভারতীয়ের জন্য আনন্দের মুহূর্ত।’
এই তাম্রলিপিগুলো সম্রাট চোল প্রথমের (৯৮৫-১০১৪) শাসনামলের। ইতিহাসবিদদের মতে, ভারতের বাইরে সংরক্ষিত তামিল ঐতিহ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
সংগ্রহটিতে মোট ২১টি তাম্রফলক রয়েছে, যার ওজন প্রায় ৩০ কেজি। ব্রোঞ্জের তৈরি একটি রিংয়ের মাধ্যমে এগুলো একসঙ্গে বাঁধা, যাতে চোল রাজবংশের রাজকীয় সিলমোহর রয়েছে। ফলকগুলোর একাংশ সংস্কৃত ভাষায় এবং অন্য অংশ তামিল ভাষায় লেখা।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, প্রথমে রাজরাজা চোল মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন, যা পরে তালপাতায় লেখা হয়। পরবর্তীতে তার পুত্র রাজেন্দ্র চোল প্রথম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য সেই তথ্য তাম্রফলকে খোদাই করান। তাম্রফলকের রিংয়ে রাজেন্দ্র চোলের প্রতীকও খোদাই করা রয়েছে।
১৮শ শতকে নাগাপট্টিনম ডাচ শাসনের অধীনে থাকাকালে ফ্লোরেন্তিয়াস ক্যাম্পার নামের এক ব্যক্তি তাম্রলিপিগুলো নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যান। তিনি সে সময় ভারতে একটি খ্রিষ্টান মিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে নিদর্শনগুলো নেদারল্যান্ডসের নিরাপদ সংরক্ষণাগারে রাখা ছিল এবং মূলত গবেষক ও শিক্ষাবিদদের জন্য সীমিতভাবে উন্মুক্ত ছিল। পরে ইতিহাসবিদ ও তামিল লিপি বিশেষজ্ঞদের কাছে এগুলোর পরিচিতি বাড়ে। জনপ্রিয় তামিল ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘পোন্নিয়িন সেলভান’ এ উল্লেখ থাকায় সাধারণ মানুষের কাছেও এগুলো পরিচিতি পায়।
আন্তঃসরকারি ‘রিটার্ন অ্যান্ড রেস্টিটিউশন’ কমিটির ২৪তম অধিবেশনে ভারতকে এসব নিদর্শনের যথাযথ উৎস দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদির সরকারি সফরের সময় নেদারল্যান্ডস সরকার তাম্রলিপিগুলো ভারতের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।