প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ভারতের পর্যটন ভিসা। সম্প্রতি ভিসা চালু নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক) এবং ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, জুনের শেষ দিকে পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু হতে পারে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশের সব আইভ্যাক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের স্থবিরতার কারণে প্রায় ২১ মাস ধরে ভারতের পর্যটন ভিসা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে অন্যান্য ভিসাও সীমিত আকারে দেওয়া হচ্ছে।
দেশে ১৬টি আইভ্যাক থাকলেও এখন মাত্র পাঁচটি কেন্দ্র—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা—থেকে সীমিত পরিসরে ভিসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকে মেডিক্যাল, ডাবল এন্ট্রি ও ব্যবসায়িক ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের পর নতুন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়। দিল্লি সফরের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও বিষয়টি উত্থাপন করেন। ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে ভারতে ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় পাসপোর্ট জমা ও ফেরত কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে আগস্টের শেষ দিকে সীমিত পরিসরে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া শুরু হয়। সে সময় নতুন আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। আইভ্যাক জানিয়েছিল, সীমিত সেবার কারণে ভিসা ইস্যুতে বিলম্ব হতে পারে। তাই আবেদনকারীদের পাসপোর্ট ফেরত নেওয়ার অনুরোধ করা হয় এবং ভিসা অনুমোদনের পর পুনরায় পাসপোর্ট জমা দিতে বলা হয়।
এদিকে, দুই দেশের আলোচনার মধ্যেই ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে পর্যটন ভিসা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ১ মে থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন নেওয়া হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে অনেকে আবেদন করার প্রস্তুতি নেন, কেউ কেউ আবেদনও করেন। তবে পরে তাদের আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
ভারতের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণকারী রবিউল হক জানান, হঠাৎ করেই অনেক মানুষ ট্যুরিস্ট ভিসার ফাইল প্রস্তুত করতে আসছেন। তবে এখনো ভিসা চালুর কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। অনেকেই জোর করে আবেদন জমা দিলেও সেগুলো পরে বাতিল হচ্ছে।
ট্যুরিস্ট ভিসা বিষয়ে আইভ্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, “পর্যটন ভিসা এখনো বন্ধ রয়েছে। চালু হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েবসাইটে জানানো হবে।”
রবিউল হকের অভিযোগ, গুজবকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে প্রতারণা করছে। পর্যটন ভিসার আবেদন করানোর নামে টাকা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আবেদন বাতিল হচ্ছে এবং আবেদনকারীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, ভারত শিগগিরই ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করবে।