পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খালখনন কর্মসূচিকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা করা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে দেশকে স্বনির্ভর করা।
মন্ত্রী জানান, ১৮০ দিনের একটি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে এবং আগামী ১৬ মে চাঁদপুরে নতুন কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, খাল খনন শুধু মাটি কাটার কাজ নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উদ্যোগ। এতে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান তৈরি হবে, কৃষি সেচ সুবিধা বাড়বে এবং মাছ ও ফল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও সক্রিয় হবে।
ভূগর্ভস্থ পানির সংকট নিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত গভীর নলকূপ ব্যবহারের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। খালভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা বাড়াতে পারলে এই চাপ কমানো সম্ভব এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা হবে।
অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দখল ও দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত খালগুলো পুনরুদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য খাল খনন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের স্বনির্ভরতার পথে ভূমিকা রাখবে।