তৃণমূল চাঙ্গা করতে কৌশলী বিএনপি

সোহাগ রাসিফ

জাতীয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে সরকার গঠনের পর দলটির সাংগঠনিক

2026-05-09T12:14:32+00:00
2026-05-09T12:15:54+00:00
 
  শনিবার, ৯ মে ২০২৬,
২৬ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
শনিবার, ৯ মে ২০২৬
জাতীয়
জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
তৃণমূল চাঙ্গা করতে কৌশলী বিএনপি
সোহাগ রাসিফ
প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম  আপডেট: ০৯.০৫.২০২৬ ১২:১৫ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে সরকার গঠনের পর দলটির সাংগঠনিক কর্মকান্ডে কিছুটা ধীরগতি ও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ বিহীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর ক্ষমতায় আসীন হয়েছে বিএনপি। দলের অনেক কেন্দ্রীয় ও জ্যেষ্ঠ নেতা এখন সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে দলীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয় ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের অফিস কার্যক্রমই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অপরদিকে তৃণমূল কর্মীরা নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়াচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দলীয় কার্যক্রম বাড়ানো, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে তৃণমূলকে পুনরায় চাঙা করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড।

আজ শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) সারা দেশের জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে বসছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে এটিই হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বড় কোনো বৈঠক।

সরকার গঠনের পর সাংগঠনিক শৈথিল্য : দলীয় সূত্রগুলো বলছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মসূচি যেমন- সভা, বৈঠক ও কর্মী সমাবেশ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র, আওয়ামী লীগ সরকার হটাতে নানা কৌশল আকা হতো এখানে বসে। যা এখন তুলনামূলক শান্ত ও ফাঁকা দেখা যাচ্ছে। দলীয় কোনো কর্মসূচি ছাড়া এখানে জমায়েত হয় না নেতাকর্মীরা। দলের অনেক প্রভাবশালী নেতা এখন মন্ত্রণালয় এবং সংসদীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের সমন্বয় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই শূন্যতা কাটাতে এবং সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর সরকার গঠন হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি বিরাজ করছে। এতদিন আন্দোলনের চাপ ছিল, এখন দায়িত্ব বেড়েছে।

আজকের বৈঠকে থাকছে নানা দিকনির্দেশনা : আজকের দিনব্যাপী মতবিনিময় সভায় সারা দেশে বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবরা অংশ নেবেন। এছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের জেলা ও মহানগরের শীর্ষ দুই নেতাও উপস্থিত থাকবেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠক থেকে দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিতে পারেন তারেক রহমান। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতা দূর করে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, তারেক রহমান এই বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। এছাড়া সরকারের নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ যেমন- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ অন্যান্য উদ্যোগের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

জাতীয় কাউন্সিল ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা : বিএনপি সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল ২০১৬ সালে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গত এক দশকে তা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে দলকে চাঙ্গা করতে আগামী ডিসেম্বরে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলের আগে তৃণমূল ইউনিটগুলো পুনর্গঠন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো হালনাগাদ করা হবে।

দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, ‘অল-আউট রিসেট’ পরিকল্পনার আওতায় দলকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এতে তুলনামূলক তরুণ, সক্রিয় ও মাঠমুখী নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপদেষ্টা হিসেবে রেখে নেতৃত্বে ভারসাম্য বজায় রাখা হবে। এছাড়া যে সব নেতা মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হননি, তাদের দলের পুনর্গঠন তদারকি এবং সাংগঠনিক কাজে বেশি সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অবস্থা : বর্তমানে বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে। আজকের বৈঠকে এসব সংগঠনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের আবাস আসতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি পুনর্গঠনের মাধ্যমে রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব আনার গুঞ্জনও জোরালো হয়েছে।

শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশেষ নজর : দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর চাদাবাজি, দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এসব ঘটনায় জড়িত থাকায় দল থেকে শাস্তিও পেয়েছেন অনেকে। তবে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় নেতাকর্মীদের আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন দলের চেয়ামম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতার অগ্রহণযোগ্য কর্মকান্ডের ফলে যাতে সরকার বিতর্কিত না হয়, সে বিষয়ে তৃণমূল নেতাদের সতর্ক করা হবে। দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, জনগণের চোখে সরকার ও দলকে আলাদা করা যায় না; তাই কর্মীদের কোনো ভুল আচরণ যাতে সরকারের সাফল্যে ছায়া না ফেলে, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে আজকের এই বৈঠকের মাধ্যমে বিএনপি তার তৃণমূল নেটওয়ার্ককে পুনরায় সক্রিয় করে রাষ্ট্র পরিচালনা ও দলীয় সাংগঠনিক কাজের মধ্যে একটি শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তুলতে চায়। ডিসেম্বরের জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বিএনপিকে এক নতুন শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো প্রদান করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: