লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় প্রায় চার দশক আগে নির্মিত জরাজীর্ণ সরকারি আবাসনগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ভবনগুলোর দেয়ালে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া, মরিচাধরা রড বেরিয়ে যাওয়া এবং ভাঙাচোরা দরজা-জানালার কারণে সবসময় দুর্ঘটনার শঙ্কা বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র জন্য পৃথক দুটি বাংলো, বিভিন্ন কর্মকর্তার আবাসনের জন্য চারটি ভবন এবং কর্মচারীদের জন্য একটি সেমিপাকা ডরমিটরি নির্মাণ করা হয়। নিয়মিত সংস্কারের কারণে চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র বাংলোগুলো এখনও ব্যবহারযোগ্য থাকলেও অন্যান্য আবাসনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।
বর্তমানে এসব ভবনে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ অন্তত ১০টি পরিবার বসবাস করছে। এছাড়া ডরমিটরিতে প্রায় ১৫ জন কর্মচারী অবস্থান করছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ভবনের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে গেছে। সিঁড়ি ও মেঝেও নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে, অনেকেই পলিথিন টানিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। দুটি ভবন অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সম্পূর্ণ খালি পড়ে আছে এবং সেখানে আগাছা জন্মেছে।
আবাসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ঝড়-বৃষ্টি হলেই ভবন ধসে পড়ার আতঙ্কে থাকতে হয়। বাথরুম ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। নিরাপত্তা ও অফিসের কাজের সুবিধার জন্য বাধ্য হয়েই তারা এসব ভবনে বসবাস করছেন।
অন্যদিকে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি কোয়ার্টারের অনুপযোগী পরিবেশের কারণে অনেকেই উপজেলা পরিষদ থেকে দূরে ভাড়া বাসায় থাকছেন। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি যাতায়াত ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও বাড়ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী সাজ্জাদ মাহমুদ খান বলেন, আবাসন ভবন ও ডরমিটরিগুলো এতটাই পুরোনো যে সেগুলো সংস্কারের উপযোগী নয়। ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ভবনগুলোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ এবং বসবাসের অনুপযোগী। বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে নতুন আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।