কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২১৫ হেক্টর বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে জোয়ানশাহী হাওরসহ নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের।
উপজেলার শ্রীনগর, আগানগর, শিমুরকান্দি ও আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে পাকা ও আধাপাকা ধানক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। এতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
অনেক কৃষক জানান, ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে পানিতে নেমে নিজেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেড় হাজার টাকা মজুরি দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পানিতে জমি ডুবে থাকায় যন্ত্রচালিত হারভেস্টারও মাঠে নামানো যাচ্ছে না। ফলে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টরে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে ২১৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।