শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশ মাদক পাচার ও সংশ্লিষ্ট অর্থপাচার রোধে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান এবং কারিগরি সহায়তা জোরদার করবে। পাশাপাশি মাদক অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী চক্র এবং পাচারের নতুন রুট ও কৌশল সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা হবে।
চুক্তির প্রধান দিকগুলো হলো—
তথ্য আদান-প্রদান: মাদক পাচারকারী ব্যক্তি, অপরাধী সংগঠন (ডিটিওস) এবং মাদক লুকানোর নতুন কৌশল সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করা হবে।
যৌথ কার্যক্রম: প্রয়োজনে উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-সহ যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে।
প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি: মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
প্রযুক্তিগত সহযোগিতা: মাদক শনাক্তকরণে ব্যবহৃত প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং স্নিফার ডগ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।
ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ: বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এএনএফ (ANF) সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।
গোপনীয়তা রক্ষা: বিনিময়কৃত সব তথ্য ও নথির কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে প্রকাশ করা হবে না।
চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছর কার্যকর থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মতিতে এর মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারবে। উভয় দেশ আশা প্রকাশ করেছে, এ সহযোগিতা মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।