রাজধানী ঢাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পাশাপাশি আরও চারটি নতুন থানা করার পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে পূর্বাচল এলাকায় নতুন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশ অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগও চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এ ‘খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. সরওয়ার জানান, গত কয়েক মাসে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের মাধ্যমে ডিএমপির প্রায় ৮ হাজার সদস্যের নতুন আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি ও ডেমরা পুলিশ লাইনে ১ হাজার ৬০০ জন করে সদস্য থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া মিরপুর পুলিশ লাইন্সে নতুন ব্যারাক উদ্বোধন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২ হাজার ২০০ সদস্য থাকতে পারবেন।
তিনি বলেন, পূর্বাচলে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ২০ তলা ভবনে ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশন ও ট্রাফিক উত্তর বিভাগের ৮০০ থেকে ৯০০ সদস্য অবস্থান করবেন। দিয়াবাড়ির ১০ একর জায়গাজুড়ে পুলিশ লাইন্সে ট্রাফিক পুলিশ, থানা ও ফাঁড়ি স্থানান্তরের কাজও চলছে।
বসিলা পুলিশ লাইন্সে নতুন করে ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের অফিস স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া রাজাবাগের এমটিও ওয়ার্কশপ বসিলায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। সেখানে ১৫০ থেকে ২০০ পুলিশ মেকানিকসহ পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্কশপ গড়ে তোলা হবে। বসিলায় ডিএমপির মোটর ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুলের কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
নতুন থানা স্থাপনের বিষয়ে তিনি জানান, রায়েরবাজারে নতুন থানার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদপুর, আদাবর ও হাজারীবাগের কিছু অংশ নিয়ে আরও একটি থানা করার পরিকল্পনা আছে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আরও বলেন, ভাটারা, বাড্ডা ও খিলক্ষেত এলাকার অংশ নিয়ে বসুন্ধরা এলাকায় নতুন একটি থানা স্থাপন করা হবে। খিলগাঁও এলাকাতেও নতুন থানার প্রস্তাব রয়েছে।
পূর্বাচল এলাকায় পুলিশিং কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। সেখানে ৪টি থানা ও ৬টি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগ, এমটিও ওয়ার্কশপ এবং পুলিশ লাইন্স স্থাপনের জন্য প্রায় ৬ হাজার সদস্যের জনবল চাহিদা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।