দেশজুড়ে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। দিন-রাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি বিপাকে পড়ছেন। ছুটির দিনেও দুপুরে প্রায় ২,৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের ঘটনা পরিস্থিতির গভীরতা স্পষ্ট করে।
সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংকটের পেছনে বড় কারণ হলো ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং বিভিন্ন সরকারি বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার বকেয়া থাকায় জ্বালানি কেনায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ভর্তুকি ছাড়ে শর্ত আরোপের কারণে অর্থপ্রবাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিং বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে, একদিন দুপুরে চাহিদা ছিল প্রায় ১৪,৫৭৪ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ করা গেছে মাত্র ১২,২৮৭ মেগাওয়াট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্ম মৌসুমে বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ বাড়াতে যথাযথ উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।
জ্বালানি সংকটও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। একইসঙ্গে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতেও জ্বালানি সংকট ও আর্থিক জটিলতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে অর্থ ও বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে ভর্তুকি ও বকেয়া পরিশোধ নিয়ে টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন শর্ত আরোপের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র তাদের পাওনা না পেয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদে বৃষ্টি হলে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমে স্বস্তি আসতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সমন্বিত পরিকল্পনা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো ছাড়া এই সংকট থেকে স্থায়ীভাবে উত্তরণের পথ নেই।