২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’দের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং দায়মুক্তি দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বিল পাস হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে এই বিল পাস হয়।
এর আগে গত ৩০ মার্চ জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি, তথা আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে সংসদে বিল পাস করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সেদিন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন ও জয়নুল আবদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি দেওয়ার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এটি অঙ্গীকারনামার পাঁচ বা ছয় নম্বর দফা। এই অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। ১৩৩টি অধ্যাদেশের সঙ্গে এটিও জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এসব অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২০ তারিখ কমিটিতে এসব নিয়ে আলোচনা হবে। সর্বসম্মতিক্রমে জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করে পাস করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেছেন।
এ বিষয়ে সারা দেশের মানুষ একমত জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালিয়েছে, জনতার প্রতিরোধের মুখে তাদের কেউ কেউ প্রাণ হারিয়েছে। কারণ তখন পরিস্থিতি ছিল একধরনের রণক্ষেত্র। সেখানে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
গত ১৫ জানুয়ারি জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশের’ খসড়ায় অনুমোদন দেয় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। ওই দিন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।