এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ১৫ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় কয়েকশ মানুষের প্রাণহানি ও বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন।
সংগঠনটি জানায়, জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে তাদের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ সেল এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে সারা দেশে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং ১,০৪৬ জন আহত হয়েছেন।
শুধু সড়ক পথ নয়, রেল ও নৌ পথেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতালে) এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২ হাজার ১৭৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এবারও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন হিসেবে মোটরসাইকেলের নাম উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত এবং ১১৪ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার বড় একটি অংশ।
দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে চালক, পথচারী, নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরাও রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, নিহত ও আহতদের মধ্যে ৭১ জন চালক, ৫৫ জন শিশু, ৫৪ জন পথচারী, ৫১ জন নারী এবং ৪২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
সংগঠনটি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সড়কে শৃঙ্খলা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং আইন প্রয়োগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।