কৃষককে মর্যাদা দিন দেশকে এগিয়ে নিন

কে এম শরীফ ইমতিয়াজ

জাতীয়

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ হচ্ছে কৃষি। এই কৃষির উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং রফতানিমুখী কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার যে প্রস্তাবনা বিএনপি এবং ভারপ্রাপ্ত

2026-01-29T12:23:35+00:00
2026-01-29T12:23:35+00:00
 
  শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬,
২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
জাতীয়
দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড শক্তিশালী করতে কৃষক কার্ডে ১০ ধরনের সুবিধা যুক্ত করতে চায় বিএনপি
কৃষককে মর্যাদা দিন দেশকে এগিয়ে নিন
বিএনপির কৃষি সংস্কার ও নির্বাচনী ভাবনা
কে এম শরীফ ইমতিয়াজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম 
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ হচ্ছে কৃষি। এই কৃষির উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং রফতানিমুখী কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার যে প্রস্তাবনা বিএনপি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দিয়েছেন, তা দেশের কৃষিজ অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পথ নির্দেশ করছে। স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লবের নায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে খাল খনন করে বাংলাদেশের সেচ ব্যবস্থা ও কৃষি অবকাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করে নতুন যুগে প্রবেশ করাতে চায় বিএনপি।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদি বিএনপি দল নির্বাচিত হলে দেশের মাঝারি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কাছে সার-বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ডের দেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। ব্যাংক কার্ডের আদলে মাইক্রোচিপ যুক্ত এই কার্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে কৃষকদের জমি, ফসল, ঋণসহ নানা তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এই সংরক্ষিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে দলটি। সরকরি তথ্য বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটা কৃষির ওপর নির্ভরশীল এবং আমাদের সমাজের কাঠামো গড়ে উঠেছে কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ভিত্তিতে। কৃষকেরা শুধু খাদ্য উৎপাদন করেন না, বরং তারা আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সমাজের ভিত্তি রচনা করেন। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, কৃষকদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি। বইয়ের পাতায় তাদের গুরুত্বের কথা বলা হলেও বাস্তবে তাঁরা সেই সম্মান ও মর্যাদা পান না, যা তাঁদের প্রাপ্য। কৃষকদের প্রাপ্য মর্যাদা না দেওয়া একটি বড় সামাজিক সমস্যা, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।

জানতে চাইলে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোনা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কায়সার কামাল বলেছেন, বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে আগামীতে আবারও কৃষি বিপ্লব হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মূল অর্থনীতি কৃষি নির্ভর অর্থনীতি। এই কৃষকদের সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করা যায় এ জন্যই আমরা কৃষকদের কাছে ছুটে এসেছি। আমরা কৃষকদের সমস্যাগুলো শুনতে এসেছি। এখানে আমাদের তিন জন কৃষি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন যারা সমস্যা গুলো চিহ্নিত করবে। এবং আমরা নির্বাচিত হলে সেই সমস্যা গুলোকে সমাধান করবো।

বিএনপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৃষক কার্ডে ১০ ধরনের সুবিধা যুক্ত করতে চায় বিএনপি। জমির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশকের জোগান নিশ্চিত হবে এই কার্ডের মাধ্যমে। কোন কৃষকের কতটুকু জমি রয়েছে, কোন কৃষকের কতটুকু সার দরকার, বীজ দরকার, কীটনাশক দরকার, সেটা কার্ডের ডাটাবেজের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। কোনো কৃষক কী ধরনের ফসল উৎপাদন করেন, সেটাও ওই কৃষক কার্ডে বলা থাকবে।

এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে তার নির্বাসন জীবনের শেষ বক্তৃতায় কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যত কৃষি জমি যা আছে, সব একটা সার্ভারের ভেতরে আমরা নিয়ে আসব। হয়তো যার দুটো ফসল হ”েছ, তাকে আমরা যেকোন একটা ফসলের ফুল সাপোর্টটা দেওয়ার চেষ্টা করব। তার প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও কীটনাশকের পুরা সাপোর্টটা তাকে আমরা দেব।’ তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের রিসার্চ বলছে, পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে যদি আমরা এই সাপোর্টটা মোটামুটিভাবে চলমান রাখতে পারি তাহলে কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে। আজকের যে ক্ষুদ্র কৃষক, হয়তো সে মাঝারি কৃষক হবে। যে প্রান্তিক কৃষক, সে ক্ষুদ্র কৃষক হবে। যদি না-ও হয়, অন্তত তার অব¯’ার পরিবর্তন হবে। তার উৎপাদন বাড়বে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটির কাছাকাছি। এই জনসংখ্যাকে যদি খাদ্যের জোগান দিতে হয় আমাদেরকে অবশ্যই কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ কৃষির সাথে জড়িত। কেউ সরাসরি চাষাবাদের সাথে জড়িত, কেউ বর্গা চাষি, কেউ জমি লিজ দেয়, কেউ মাঠে কাজ করে। এই ৬০ ভাগ মানুষের যদি ভাগ্য পরিবর্তন না হয়, তাঁদের অর্থনৈতিক উন্নতি না হয়, তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হবে না। বিএনপি ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছে, কৃষকের উন্নতির সাথেই বাংলাদেশের উন্নতি নির্ভর করছে।’
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে এই পরিকল্পনা কৃষকের প্রয়োজনীয়তা মেটাবে উল্লেখ করে তুহিন বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি বড় অংকের টাকা সরকার ভর্তুকি দেয় কৃষকদের জন্য। এটা বিভিন্ন ভর্তুকির টাকার অপব্যবহার হ”েছ, দুর্নীতি লুটপাট হ”েছ, এ জন্য এই ভর্তুকির টাকা খুব একটা কাজে লাগছে না। কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কৃষকের ভর্তুকির টাকা তাদের কার্ডে চলে আসবে, যখন-তখন এই কার্ডের টাকা কৃষক খরচ করতে পারবেন। কৃষক কার্ডে জমির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে কে কতটুকু ব্যাংক ঋণ পাবেন, এটাও নির্ধারিত থাকবে।’

এ ব্যাপারে পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক হেমায়েত বলেন, ‘এটা তো আসলে বলার অপেক্ষা রাখে না এটা খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। এটা সমন্বিত এবং আধুনিক কৃষি সেবাব্যব¯’ায় ইঙ্গিত দি”েছ। এটা বাস্তবায়ন হলে সে ক্ষেত্রে একটা ডাটাবেস হয়ে যাবে এবং তাদেরকে যে প্রয়োজন অনুসারে যেমন আমরা কৃষকদেরকে শনাক্ত করতে পারব এবং তাঁদের সার, বীজ বা কীটনাশকের যে ভর্তুকি বা সহায়তা সঠিকভাবে তাঁদের কাছে পৌঁছাতে পারবে এবং যেটা আমাদের এই কৃষিনির্ভর দেশের অর্থনীতিটাকে আরও চাঙ্গা করবে নিঃসন্দেহে।’

এদিকে বিএনপির কৃষক কার্ডের পরিকল্পনাকে সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইডিয়াটা ভালো। এটা করা যায়। কীভাবে করবে? ইমপ্লিমেন্টেশনটা তাদের কার্ডটা যখন করবে, আপডেটেড থাকবে কিনা, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে লিঙ্ক করা থাকবে কিনা—এই কিছু বিষয় ভেবে নিলে সমস্যা হওয়ার কথা না। তবে পরিকল্পনা ভালো হলেও বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক হেমায়েত জাহান বলেন, ‘যদি আমাদের যে একটা প্রিভিয়াস যে রেকর্ড আছে, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম- এগুলো যদি বহাল থাকে, সে ক্ষেত্রে এটা আগেকার অন্যান্য প্রজেক্টের মতোই ফেল করবে।’

এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি প্রবণতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই ধরনের কাজ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বা চেয়ারম্যান- তাদেরকে দিয়েই করতে হয়। তারা যদি সততার সাথে কাজ না করে, তখন এই সমস্যাটা হতে পারে। আগের সরকারের উদাহরণ টেনে অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বাড়ি একটি খামার নামে একটি প্রকল্প ছিল। সেই উদ্দেশ্য ভালো ছিল। ইমপ্লিমেন্টেশন পর্যায়ে গিয়ে আমরা শুনি যে অনেক উল্টাপাল্টা ছিল আসলে।’


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: