রাজধানীর ৭টি সরকারি কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠা করতে গতবছর থেকে কাজ করছে সরকার। এবার প্রতিষ্ঠানটি স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়েছে আরও এক ধাপ। গতকাল রোববার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, যা দ্রুততম সময়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভ করবে। তবে সরকারের এমন বক্তব্যের পরও রাজপথে অনড় শিক্ষার্থীরা। তারা বলেছে আজ সোমবার রাজধানীর সায়েন্সল্যাবে একটি ভ্রাম্যমান ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ বসাবে। এই মঞ্চকে কেন্দ্র করে তারা গণজমায়েত করবে। আগামী ২২ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের সভায় কি সিদ্ধান্ত হয়, সে অনুযায়ী এখান থেকে তারা হয়ত বিজয় মিছিল কিংবা মিষ্টি বিতরন করবে, না হয় যমুনা কিংবা সচিবালয় অভিমুখে ঘেরাও কর্মসূচী দিবে।
* অনুমোদনের অপেক্ষায় নথি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে
* আজ সায়েন্সল্যাবে বসছে ভ্রাম্যমান ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’
বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অধ্যাদেশটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ে চূড়ান্ত করার পূর্বে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বচ্ছ ধাপ অতিক্রম করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মতামত সংগ্রহ, জনমতের জন্য ওয়েবসাইটে খসড়া প্রকাশ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের অভিমত গ্রহণ করে একটি সর্বজনগ্রাহ্য কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় আরও জানায়, খসড়া চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা কাঠামো নির্ধারণ করা, যেখানে অংশীজনদের যৌক্তিক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে এবং বিদ্যমান উদ্বেগসমূহ নিরসন হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পর্যায়ের সকল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর এটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি-দ্রুততম সময়ের মধ্যেই অধ্যাদেশটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করবে।
সায়েন্সল্যাবে শিক্ষার্থীদের ভ্রাম্যমান ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ : এদিকে সরকারের বিজ্ঞপ্তির পর গতকাল সন্ধ্যায় সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের প্রতিনিধি ও ঢাকা কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাঈম হাওলাদার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাত কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত ও হালনাগাদকৃত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫-এর খসড়ার ওপর অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে একটি ভ্রাম্যমাণ ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ উন্মোচন করা হবে। পাশাপাশি সাতটি ক্যাম্পাসে আরও পাঁচটি অধ্যাদেশ মঞ্চ স্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা এই মঞ্চ থেকে দেশবরেণ্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও অন্যান্য সুধীজনকে আকৃষ্ট করবেন। পাশাপাশি দেশবাসীকে দাবির যৌক্তিকতা বোঝানো হবে কেন এখনই অধ্যাদেশ প্রয়োজন।
ভ্রাম্যমাণ অধ্যাদেশ মঞ্চটি আগামী ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিটি ক্যাম্পাসে পালাক্রমে ভ্রমণ করবে। আগামী ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ভ্রাম্যমাণ অধ্যাদেশ মঞ্চ এবং সাত ক্যাম্পাসে স্থাপন করা অধ্যাদেশ মঞ্চ নিয়ে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে এসে জমায়েত হবেন।
আগামী ২২ জানুয়ারি আসন্ন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হলে সায়েন্সল্যাবের গণজমায়েত থেকে রাষ্ট্র ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন সাপেক্ষে একটি বৃহৎ বিজয় মিছিল আয়োজন করা হবে। অন্যথায়, ওই গণজমায়েত থেকেই যমুনা কিংবা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে বৃহৎ পদযাত্রা করবেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, উপরোক্ত কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট সাময়িক জনদুর্ভোগের জন্য রাজধানীবাসীর কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকহীন শিক্ষাজীবন ও মানহীন শিক্ষার গ্লানি থেকে মুক্তির যে আন্দোলন চলছে, তা পূরণ হলেই শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে বাধ্য এই প্রত্যাশা জানিয়ে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পরিহারের আহ্বান : অধ্যাদেশটি বর্তমানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি ধাপ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা জরুরি। এ সময় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মসূচি বা আবেগপ্রসূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিনের এই শ্রম ও অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে।
এর আগে গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করা হয়েছিল। এসময় তীব্র জানঝটে রাজধানীবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হন। তার আগে সর্বশেষ গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবন অভিমুখে ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যেই আনুষঙ্গিক সব কার্যক্রম শেষ করে জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারি করার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল।