দেশে একটা ক্রান্তিকাল চলছে, অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে, একই দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও গণভোট হবে। এরকম প্রেক্ষাপটে শিক্ষকরা তাদের কিছু দাবিতে শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েয়ছেন। প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, চার দফা দাবিতে সরকারি মাধ্যমিক এবং তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে সারা দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কোথাও পরীক্ষা একেবারে স্থগিত, কোথাও দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে; আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে গেট তালাবদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সোমবার থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করায় চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির শিকার হয়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। ফলে দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে তৈরি হয়েছে স্থবিরতা। সরকারের তরফ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া সত্ত্বেও দাবি আদায়ে অটল অবস্থানে রয়েছেন শিক্ষকরা। তবে, শিক্ষকদের এই অটল অবস্থানের কারণে সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে। গত সোমবার আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল ভোরের ডাককে বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন হয়েছে, তাদের তালিকা তৈরি করছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে খুবই কঠোর অবস্থানে। আমরা নির্দেশনা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
এদিকে প্রাথমিক স্কুলগুলোর বার্ষিক পরীক্ষাও সোমবার শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রাথমিকের শিক্ষকদের একাংশ বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে কর্মবিরতি কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে সেখানেও পরীক্ষা হয়নি। চার দফা দাবিতে ‘বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি-বাসমাশিসের’ ব্যানারে আন্দোলনরত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বৃহস্পতি ও রোববার রাজধানীর ‘শিক্ষা ভবন’ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর সোমবার থেকে কর্মবিরতি শুরুর ঘোষণা দেন। এরপর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা স্থগিতের নোটিশ টাঙানো হয়।
এটা ঠিক জাতি গড়ার কারিগর আমাদের শিক্ষকরা নানাভাবে বঞ্চিত। তাদের এই বঞ্চনা আজকের নয়, দীর্ঘদিনের। ব্রিটিশ-পাকিস্তান এমনকি বাংলাদেশের স্বধীনতা-উত্তরকালেও বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা সরকারিভাবে কোনো আর্থিক সহায়তা পেতেন না। বেসরকারি শিক্ষকদের আর্থিক দুরাবস্থার কথা চিন্তা করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এমপিওকরণের মাধ্যমে কিছু আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেন। তাতে অন্তত শিক্ষকদের জীবনে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য আসে। অনেকে টিউশনি করে অবস্থার আরও উন্নিতি করে নেন। কিন্তু এত কিছুর পরও বাংলাদেশে শিক্ষকদের আর্থিক সুযোগ সুবিধা কম। প্রতিবেশী দেশ ভারতে গ্রামাঞ্চলের অঙ্ক এবং ইংরেজির শিক্ষকরা প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তদের সমান বেতন পান। সে বিবেচনায় বাংলাদেশের শিক্ষকরা কম উপার্জন করেন। শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক, তবে প্রশ্ন হচ্ছে সব শিক্ষকদের সব দাবি একই সময় কেন। স্কুল বন্ধ, সড়ক অবরোধ শিক্ষক আন্দোলনের মাধ্যম হতে পারে না। সভ্য দেশে স্কুল বন্ধ থাকতে পারে না। সরকার লুট হয়ে যাওয়া অর্থনীতি উদ্ধার করছে। এ অবস্থায় কিছু দাবি তো মানা হয়েছে। বাকি দাবি না হয় নির্বাচিত সরকারের জন্য রাখা থাক। বিএনপি জামায়াত এনসিপিসহ সব রাজনৈতিক দল শিক্ষকদের দাবি পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। আপাতত শিক্ষকদের একটু ধৈর্য ধরা উচিত বলে আমরা মনে করি।