ই-পেপার বাংলা কনভার্টার শনিবার ● ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
ই-পেপার শনিবার ● ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
Select Year: 
ব্রেকিং নিউজ:

হাদি হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার

হাদিকে গুলির ঘটনায় একজন শনাক্ত, সন্ধানদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে : ডিএমপি

৭২ ঘণ্টা অতি ঝুঁকিপূর্ণ, হাদির ব্রেইন স্টেম ক্ষতিগ্রস্ত : বিশেষ সহকারী

২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান : মির্জা ফখরুল

হাদির জন্য কাঁদছে পুরো বাংলাদেশ

এভারকেয়ারে ওসমান হাদি

ডান দিক থেকে গুলি ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়, অংশবিশেষ এখনো হাদির ব্রেনে

বাইক থেকে গুলি ছোড়া দুই ব্যক্তি হাদির জনসংযোগে অংশ নিয়েছিলেন

হাদিকে গুলির ঘটনায় তারেক রহমানের প্রতিবাদ

ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ, প্রধান উপদেষ্টার কঠোর বার্তা

হাদি গুলিবিদ্ধ : ঢামেকে তোপের মুখে মির্জা আব্বাস

হাদি বলেছিলেন, ‘তোমরা আইসো না, প্রচারণা শেষে একসঙ্গে লাঞ্চ করব’

হাদি গুলিবিদ্ধ : সরকার দৃঢ় ব্যবস্থা নেবে, আশা মির্জা ফখরুলের

নতুন করে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাইলে জনগণ জবাব দেবে : শফিকুর রহমান




বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ও ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেবাংলাদেশের অবস্থান : ২০২৫-এর বিশ্লেষণ
সাকিফ শামীম
প্রকাশ: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:২১ পিএম  (ভিজিটর : ১০৬)

বর্তমান বিশ্ব এক জটিল, দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং মেরুকৃত ভূ-রাজনৈতিকও অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের এই সন্ধিক্ষণে, বৈশ্বিক সাপ্লাইচেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল এখন কেবল দক্ষতার বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত নিয়ন্ত্রণএবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য, প্রযুক্তিগতএবং সামরিক প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে। এইবিশাল ক্যানভাসে, এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক বিস্ময় হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান এখনএক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বহু-মাত্রিক বিশ্লেষণের দাবি রাখে। আমাদের ভৌগোলিক সুবিধা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি এবং বিচক্ষণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ এই নতুন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেআমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
২০২৫ সালের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল আর শুধু 'চায়না-প্লাস-ওয়ান'-এসীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন 'ফ্রেন্ড-শোরিং' এবং 'ডাইভার্সিফিকেশন ফর রেসিলিয়েন্স'-এর মতোনতুন ধারণায় প্রবেশ করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো এখন এমন অংশীদার খুঁজছে, যারা শুধু কম উৎপাদনখরচে পণ্য সরবরাহ করবে না, বরং তাদের মূল্যবোধ (Values), বিশেষ করে পরিবেশগত, সামাজিকও সুশাসন (ESG) মানদণ্ড মেনে চলবে।
এই পটভূমিতে, বাংলাদেশ এক অনন্য সুবিধা ভোগ করছে। আমাদের তৈরিপোশাক খাত বিগত বছরগুলোতে কমপ্লায়েন্স, কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা এবং গ্রিন ফ্যাক্টরিনির্মাণে যে বিপ্লবী অগ্রগতি এনেছে, তা বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে একটি 'বিশ্বাসযোগ্যবিকল্প' হিসেবে আমাদের ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত শক্তিশালী করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এবং ইউনিসেফের সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলো শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের ইতিবাচক প্রচেষ্টারদিকে ইঙ্গিত করছে, যা পশ্চিমা বাজারগুলোর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
তবে, চ্যালেঞ্জ শুধু পোশাকে সীমাবদ্ধ নেই, উচ্চ মূল্যের এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতগুলোতেও এই কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা জরুরী। বিশেষ করে, হালকা প্রকৌশল, ফার্মাসিউটিক্যালসএবং আইটি-এনাবলড সার্ভিসেস (ITES) খাতে স্বচ্ছতা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখার মাধ্যমেইআমরা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের আরও বড় অংশীদার হতে পারব। এই রূপান্তর প্রক্রিয়াকে সফলকরতে ব্লকচেইন-ভিত্তিক সাপ্লাই চেইনের মতো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে দ্রুত বিনিয়োগকরা আবশ্যক, যা ক্রেতাদের আস্থা আরও বাড়াবে।
ভূ-রাজনৈতিকভাবে, বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই বৃহৎ পরাশক্তি চীন ও ভারত ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতারকেন্দ্রে অবস্থান করছে। বঙ্গোপসাগর বিশ্ব বাণিজ্যের এক লাইফলাইন, যেখানে পশ্চিমা শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, 'মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক' নিশ্চিত করতে তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষএবং ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) আমাদের ভৌত অবকাঠামো, বিশেষ করে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা লজিস্টিকসে আমাদেরদুর্বলতা কাটাতে অপরিহার্য। অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসন, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারেরএজেন্ডা নিয়ে বিনিয়োগের প্রস্তাব করছে, যা আমাদের রপ্তানি বাজারকে সুরক্ষিত রাখারজন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো একক শক্তি বা ব্লকের প্রতি অতি-নির্ভরশীল না হয়ে প্রতিটিসম্পর্ককে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থের মানদণ্ডে বিচার করলে তা আমাদের জন্য সুফল বয়েনিয়ে আসবে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্র বন্দরের মতো প্রকল্পগুলোতেবহুজাতিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগের এক নিরপেক্ষ কেন্দ্রে পরিণতহতে পারি। এই 'কানেক্টিভিটি হাব' হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য, ছোট অর্থনীতিরদেশ হিসেবে আমাদের কূটনৈতিক দর কষাকষির ক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।
২০২৬ সালেস্বল্পোন্নতদেশের (LDC) তালিকা থেকে উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য সম্মানজনক হলেও, এটি আমাদের অর্থনীতিতেব্যাপক কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে। প্রথমত, LDC থেকে উত্তরণের পর আমরা শুল্কমুক্তসুবিধা (GSP) হারাব, যার ফলে আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্যের ওপর ৬% থেকে ১৪% পর্যন্তঅতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতামারাত্মকভাবে কমিয়ে দেবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়, সরকারকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, এবং অন্যান্য প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সাথে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনার সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বাণিজ্য আলোচনায় বিশেষজ্ঞ দক্ষতা অর্জনের জন্য নিবিড়প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমি প্রতিনিয়ত কথা বলে যাচ্ছি।
দ্বিতীয়ত, মেধাস্বত্ব চুক্তি (TRIPS Agreement)-এ আমরা যে ছাড়পাচ্ছিলাম, তা বিলুপ্ত হলে আমাদের ওষুধ শিল্পের উৎপাদন খরচ বহুগুণে বেড়ে যাবে। বিশেষকরে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ওষুধ উৎপাদনে এটি প্রভাব ফেলবে। সরকারকে ট্রিপস চুক্তিরবাইরে গিয়েও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে কিছু সুবিধা ধরে রাখার জন্য জোর কূটনৈতিকপ্রচেষ্টা চালাতে হবে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণই একমাত্র সমাধান।আইএমএফ এবং এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরে রাখতে আমাদের অ্যাডভান্সডটেকনিক্যাল টেক্সটাইল, অ্যাগ্রো-প্রসেসিং, মেডিকেল ডিভাইস এবং আইটি খাতে বিদেশি বিনিয়োগআকর্ষণ ও দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে প্রায় $১.৮৫ বিলিয়নডলারের যে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে, তার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য 'ব্যবসা করার সহজ পরিবেশ' (Ease of Doing Business) নিশ্চিত করা এবং গ্যাস-বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরাই এখন জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
তৃতীয়ত, বৈশ্বিকচ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মূল শক্তি আসে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিকসক্ষমতা থেকে। ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক সূচক, বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তারল্য সংকটএবং খেলাপি ঋণের বোঝা, এগুলো দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করছে।
টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতে কঠোর সংস্কার, জাতীয়রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং টার্নওভার করবৃদ্ধি-র মতো পদক্ষেপগুলো যেন ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত চাপ না ফেলে, সেদিকে সতর্ক নজরদিতে হবে। 'বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো' ব্যবস্থার মতো উদ্যোগগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন করেবিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজ ও হয়রানিমুক্ত করা জরুরি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুশাসনেরপ্রতি অটল অঙ্গীকার কেবল দেশীয় উদ্যোক্তাদের নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদেরআস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। এই সম্মিলিতপ্রচেষ্টার মাধ্যমেই বাংলাদেশ বিশ্ব মঞ্চে এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবেতার অবস্থানকে কেবল সুরক্ষিতই নয়, বরং সুদৃঢ় করতে পারবে।

ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালএন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার
ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড গ্রুপ  





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com