প্রকাশ: সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৩:১৬ পিএম (ভিজিটর : ২৬৩)
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এজন্য চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, এই কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপরেখা প্রণয়ন করবে। এই কমিটির সদস্যরা হলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিমউদ্দিন খান। গঠিত এই কমিটি আগামী চারমাসের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ করবে বলে জানানো হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে , বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওপর এ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে। তাছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে সংযোজন করতে পারবে। কমিটির কার্যপরিধি সর্ম্পকে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করার ফলে উদ্ভূত সমস্যাগুলোর বিষয়ে চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির মতামত ও সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করা। সাতটি কলেজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে কলেজগুলোর স্বতন্ত্র সত্তা বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক একটি কাঠামোতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া বিকল্পগুলো বিবেচনা।
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় খসড়া সংবিধি প্রণয়ন করা। কমিটির সুপারিশে এইচএসসি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার মানোন্নয়নকে সর্বোপরি প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা। কমিটি তার কার্যক্রমে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে এবং ছাত্র-শিক্ষক প্রতিনিধি ও অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করবে। আগামী চারমাসের মধ্যে কমিটি কাজ সম্পন্ন করবে।
প্রসঙ্গত, স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি দাবিতে সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে করে আসছিলেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের দাবি যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাতেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ৬ নভেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের আশ্বাসে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন আপাতত স্থগিত করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অধিভুক্তির আগে ও পরে কলেজেগুলোতে শিক্ষার মানের কোন উন্নতি হয়নি। এ সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত। ফলে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কলেজগুলোকে অধিভুক্ত করা হয়েছিল, তা আট বছরেও অর্জন করা সম্ভব হয়নি। বিপরীতে এসব কলেজে শিক্ষার পরিবেশে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। শিক্ষার মানের উন্নতির পরিবর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈষম্যমূলক বিভিন্ন নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার যথাযথ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা আরো জানিয়েছে, বর্তমানে সাত কলেজে মানসম্পন্ন শিক্ষাদানের পরিবেশের অভাব, মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব, অবকাঠামোগত সংকট, ল্যাব ও গবেষণার সংকট, শ্রেণিকক্ষের অপ্রতুলতা, আবাসন ও পরিবহন সমস্যা, একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও সিলেবাস না থাকা, পরীক্ষা ও পরীক্ষার ফলাফল যথাসময়ে প্রকাশ না করা সহ অসংখ্য সংকটে জর্জরিত। এই পরিস্থিতিতে সরকারি সাতটি কলেজকে নিয়ে একটি স্বায়ত্তশাসিত বা স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানান তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ।