বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খানের কেদারনাথ মন্দিরে গিয়ে পূজা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতে নতুন করে ধর্মীয় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর এ কর্মকাণ্ডকে ইসলামি শরিয়তবিরোধী দাবি করে ফতোয়া দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের ধর্মীয় নেতা মৌলানা মুফতি শেহাবুদ্দিন রজভি বেরেলভি। একই সঙ্গে সারাকে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮, সিয়াসাত ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত ২৫ অক্টোবর উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরে যান সারা আলি খান। সেখানে অন্য ভক্তদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে মন্দির দর্শন ও পূজা দিতে দেখা যায় তাঁকে। পরে মন্দিরে তাঁর প্রার্থনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের জাতীয় সভাপতি মৌলানা মুফতি শেহাবুদ্দিন রজভি বেরেলভি। তাঁর দাবি, কয়েকজন মুসলিম তরুণ সারার মন্দিরে গিয়ে পূজা দেওয়ার বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তাঁদের প্রশ্নের জবাব দিতেই তিনি শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
মৌলানার বক্তব্য, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কোনো মুসলিম নারী বা পুরুষের অন্য ধর্মের উপাসনাপদ্ধতি অনুসরণ কিংবা মন্দিরে গিয়ে পূজা-অর্চনায় অংশ নেওয়া বৈধ নয়। সারার এ কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘নাজায়েজ’ ও ‘হারাম’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, সারা মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেছেন এবং দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে দর্শন নিয়েছেন। এ জন্য অভিনেত্রীর তওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। ক্ষমা না চাইলে তিনি আল্লাহর কাছে অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন বলেও মন্তব্য করেন ওই ধর্মীয় নেতা।
এ বিতর্কের মধ্যে সারা আলি খান কিংবা তাঁর ব্যবস্থাপনা দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিয়াসাত।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও সামনে এসেছে। অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌলানা সাজিদ রশিদি এ ফতোয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনো অভিনেত্রীর উপাসনালয় পরিদর্শন বা অভিনয়ের প্রয়োজনে অন্য ধর্মের আচার পালনের কারণে এ ধরনের ফতোয়া দেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী মন্দির বা মসজিদে যেতে পারেন।
অন্যদিকে জগদগুরু পরমহংস আচার্যও সারার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজের ধর্ম পালন, উপাসনার পদ্ধতি বেছে নেওয়া কিংবা নাস্তিক থাকার স্বাধীনতা দিয়েছে।
সারার কেদারনাথ সফর ঘিরে মন্দিরে অ-হিন্দু দর্শনার্থীদের প্রবেশের নিয়ম নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহন সিং রাঙ্গার নিউজ১৮-কে জানিয়েছেন, মন্দিরে যাওয়ার আগে সারার দল প্রয়োজনীয় হলফনামা জমা দিয়েছিল। অর্থাৎ, মন্দির কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সেখানে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
কেদারনাথের সঙ্গে সারার পরিচয় বহুদিনের। ২০১৭ সালে অভিষেক কাপুর পরিচালিত ‘কেদারনাথ’ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য প্রথমবার ওই এলাকায় যান তিনি। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের বিপরীতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় সারার।
এরপরও একাধিকবার কেদারনাথ মন্দিরে গেছেন অভিনেত্রী। বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ স্থানটির প্রতি নিজের ভালো লাগা ও আবেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। এবারও মন্দির সফরের পর তাঁর পূজা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হলো।