বাজারে শীতের সবজির হাওয়া, কমল ডিমের দাম; মুরগি-মাছে এখনো স্বস্তি নেই

ভোরের ডাক ডেস্ক

বাণিজ্য

শীত এখনো পুরোপুরি আসেনি, তবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। আগাম শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার সরবরাহ বাড়ায়

2026-10-23T16:02:36+00:00
2026-10-23T16:03:03+00:00
  শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬,
৮ কার্তিক ১৪৩৩
 
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
বাণিজ্য
বাজারে শীতের সবজির হাওয়া, কমল ডিমের দাম; মুরগি-মাছে এখনো স্বস্তি নেই
ভোরের ডাক ডেস্ক
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ পিএম  আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ৪:০৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
শীত এখনো পুরোপুরি আসেনি, তবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। আগাম শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার সরবরাহ বাড়ায় কয়েক ধরনের সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে পূজার ছুটিতে ক্রেতা কম থাকায় কিছু বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডিমের দামেও মিলেছে কিছুটা স্বস্তি। তবে টমেটো ও শিম এখনো তুলনামূলক চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মুরগি, মাছ ও মাংসের বাজারে দাম কমার তেমন লক্ষণ নেই।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। 

শিম-টমেটো এখনো চড়া, কমেছে কিছু সবজির দাম

বাজারে আগাম শীতকালীন সবজির মধ্যে শিম, ফুলকপি ও মুলার সরবরাহ বাড়ছে। শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া বাজারে শিম প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। তবে অন্য কয়েকটি বাজারে নতুন শিমের দাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ১০০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ২০০ টাকা পর্যন্ত ছিল বলে বাজার ঘুরে দেখা গেছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৭০ টাকা এবং বাঁধাকপি আকারভেদে ৩০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব বাজারে দাম এক নয়। কোনো বাজারে ফুলকপি ও বাঁধাকপি তুলনামূলক কম দামে মিললেও অন্য বাজারে নতুন সবজি হওয়ায় দাম বেশি রাখা হচ্ছে।

টমেটোর দাম এখনো ক্রেতাদের ভোগাচ্ছে। বাজারভেদে প্রতি কেজি টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম ৮০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

কাঁচামরিচের দাম মানভেদে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া—প্রতি কেজি পেঁপে ১৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা। আলু ৩০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে থাকলে আগামী দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে। তবে নতুন সবজির উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় ও বাজারে চাহিদার ওপর দাম নির্ভর করবে।

ডজন ডিমে কমেছে ১০–২০ টাকা

সবজির পাশাপাশি ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শুক্রবার কয়েকটি বাজারে বাদামি ডিমের ডজন ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও হালি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪৬ থেকে ৫০ টাকায়।

বাজারভেদে গত সপ্তাহে ফার্মের ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সে তুলনায় এখন ডজনপ্রতি প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং পূজার ছুটিতে চাহিদা কমে যাওয়ায় ডিমের দাম কমেছে। তবে খুচরা বাজারে দোকান ও এলাকা অনুযায়ী দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। 

মুরগির বাজারে দামের ওঠানামা

ডিমের দামে স্বস্তি মিললেও মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম বাজারভেদে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়।

কিছু বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে কয়েকটি বাজারে সোনালি মুরগির দাম আরও বেশি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, খামার পর্যায়ে সরবরাহের ওঠানামা, পরিবহন ব্যয় ও পোলট্রি খাবারের উচ্চমূল্য খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলছে। তাঁদের ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি সীমিত

রাজধানীর মাছের বাজারে অধিকাংশ মাছের দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাজার ও মাছের আকারভেদে প্রতি কেজি রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাবদা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। শিং মাছের দাম আকার ও ধরন অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা; দেশি শিংয়ের ক্ষেত্রে তা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে বলে কয়েকটি বাজারের দরতালিকায় দেখা গেছে।

তবে সব বাজারে একই দাম নয়। মাছের আকার, দেশি না চাষের, জীবিত না মৃত এবং সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দামে পার্থক্য হচ্ছে। কিছু বাজারে পূজার ছুটিতে ক্রেতা কম থাকায় নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের মাছের দাম কিছুটা কমেছে। 

গরুর মাংস ৮০০, খাসি ১ হাজার ৩০০ টাকা

মাংসের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা।

ডিম ও কিছু সবজির দাম কমলেও মুরগি, মাছ ও মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে বাজার করতে গিয়ে ক্রেতাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

নিত্যপণ্যে স্বস্তি নেই

চাল, ডাল, তেল ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দাম অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে, তবে দাম এখনো উচ্চপর্যায়ে।

বাজারে আসা ক্রেতাদের মতে, শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় কিছু পণ্যে স্বস্তি ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু পুরো বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। টমেটো, শিম, মাছ ও মুরগির মতো পণ্য কিনতে এখনো বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে শীতের সবজির আগমনে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিললেও নিত্যপণ্যের সামগ্রিক ব্যয় এখনো চড়া। সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবজির দাম আরও কমে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


Loading...
Loading...

বাণিজ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: