সবজির বাজারে আগুন, মাছ-মুরগিও নাগালের বাইরে

ভোরের ডাক ডেস্ক

বাণিজ্য

রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।

2026-10-16T14:46:40+00:00
2026-10-16T14:49:06+00:00
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
 
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
বাণিজ্য
সবজির বাজারে আগুন, মাছ-মুরগিও নাগালের বাইরে
ভোরের ডাক ডেস্ক
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৬ পিএম  আপডেট: ১৬.১০.২০২৬ ২:৪৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। টমেটো, বেগুন, কাঁচা মরিচ ও শিমের মতো সবজি কিনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। অন্যদিকে, মাছ ও মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই। তবে কিছুটা কমেছে ডিমের দাম। চালের কয়েকটি জাতের দামও বেড়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, ধুপখোলা ও সূত্রাপুরসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি টমেটো ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিমের দাম বাজারভেদে ১২০ থেকে ২০০ টাকা। পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং বরবটি ৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি শসা ৭০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ও কাকরোল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৭০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও দাম এখনও চড়া। প্রতি কেজি নতুন আলু ২০০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৮০ টাকা এবং বাঁধাকপি আকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং চালকুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে কিছু সবজিতে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। পেঁপে প্রতি কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা, আলু ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাকের মধ্যে লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, কলমি শাকের দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাকের দুই আঁটি ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারও চড়া। বাজারভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, কাতল ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা, চাষের শিং ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং দেশি শিং ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, বোয়াল ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকা এবং পাঙাস ১৮০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৃগেল মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি।

মুরগির বাজারেও দাম খুব একটা কমেনি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি বা কক মুরগি ২৯০ থেকে ৩৩০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৬৭০ টাকা।

অন্যদিকে, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ-মুরগির বাজারে স্বস্তি না থাকলেও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪০ থেকে ১৫৫ টাকা এবং সাদা ডিম প্রায় ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিমের ডজন ২০০ টাকা। দেশি মুরগির ডিমের চারটি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের চারটি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, চালের বাজারেও কয়েকটি জাতের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি আটাশ চাল ৬৩ থেকে ৬৫ টাকা, মিনিকেট ৭৫ টাকা এবং পাইজাম চাল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব চালের দাম কেজিতে প্রায় ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। তবে মোটা চালের দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে রয়েছে।

চাল ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চালের দামে প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি ধানের দাম ও মৌসুমি পরিস্থিতিও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। কয়েক ধরনের চালের বস্তাপ্রতি দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাঁদের অভিযোগ, কিছু পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। বিশেষ করে সবজি, মাছ ও মুরগি কিনতে গিয়ে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো মিল নেই। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই বড় অঙ্কের টাকা খরচ হচ্ছে। মাছ-মাংসের পাশাপাশি সবজির দামও বেশি হওয়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতাদের আশা, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে আগামী দিনগুলোতে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে পরিবহন ব্যয় ও পাইকারি বাজারের দামের ওপর খুচরা বাজারের মূল্য নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

সব মিলিয়ে, রাজধানীর বাজারে কিছু পণ্যের দামে সামান্য স্বস্তি মিললেও অধিকাংশ নিত্যপণ্য এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ।


Loading...
Loading...

বাণিজ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: