দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম নির্ধারণের লক্ষ্যে গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগামী ২৯ অক্টোবর রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনের শহিদ এ কে এম শামসুল হক খান মেমোরিয়াল অডিটোরিয়ামে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিইআরসির সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকারের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গণশুনানি চলবে। সরকারি এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ের মূল্যহার পরিবর্তনের পাশাপাশি বেসরকারি এলপিজির মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ, ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ এবং রিটেইলার চার্জসহ ভোক্তাপর্যায়ের মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।
বিইআরসি জানিয়েছে, সরকারি এলপিজির মূল্যহার পরিবর্তনের জন্য এলপি গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল) এবং বেসরকারি এলপিজির বিভিন্ন চার্জ ও ভোক্তাপর্যায়ের মূল্যহার পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সধারীরা কমিশনে প্রস্তাব দিয়েছেন। এ ছাড়া ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ পরিবর্তনের বিষয়েও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪(৬) ধারা অনুযায়ী এসব প্রস্তাবের বিষয়ে আগ্রহী পক্ষগুলোর মতামত নিতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
গণশুনানিতে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে কমিশনে নাম নিবন্ধনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সময়সীমার মধ্যে শুনানির আগে লিখিত বক্তব্য বা মতামতও পাঠাতে হবে।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাপে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়।
এদিকে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ও সরবরাহ নিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ডাকা দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।
গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত ও প্রস্তাব পর্যালোচনার মাধ্যমে এলপিজির মূল্যহার এবং বিভিন্ন চার্জ পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করবে বিইআরসি। তবে শুনানির আগেই নতুন দাম নির্ধারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।