মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০৬ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়। গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ২৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২৪ মিনিট) এ দর রেকর্ড করা হয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বরের পর এটিই ব্রেন্ট তেলের সর্বোচ্চ দাম।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ৯৬ ডলারে ওঠে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিই তেলের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। প্রতিবেদনে ওই হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার বিমানবন্দরটিতে আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তেল উৎপাদন, পরিবহন ও রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা। চলতি মাসে এ নৌপথে চলাচলকারী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে। এতে দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের সমঝোতার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। এসব উদ্যোগের ফলে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ট্যাংকারে হামলার ঝুঁকি সেই প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। ফলে সম্ভাব্য সরবরাহ বৃদ্ধির খবরও তেলের দাম কমাতে পারছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে শুধু সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা যথেষ্ট নয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমানো, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং তেল রপ্তানি স্বাভাবিক রাখা জরুরি।
পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতি ও ভোক্তা পর্যায়ের ব্যয়েও পড়তে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা