সংবিধান সংশোধন বা রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ ব্যর্থ হলে এর দায় বিএনপির ওপর বর্তাবে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলসহ সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করতে হবে। একক সিদ্ধান্ত বা গায়ের জোরে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে সংকট আরও বাড়তে পারে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, বড় গণঅভ্যুত্থানের পরও দেশে খুনোখুনি, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেপ্তার ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, এত কিছুর পরও রাষ্ট্র সংস্কারের অগ্রগতি কোথায়?
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, সরকারকে বিরোধী দলসহ সব অংশীজনকে নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করতে হবে। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যাতে দেশে নতুন করে সংকট তৈরি হয়।
তিনি বলেন, সরকার সফল হোক, সেটিই তাঁরা চান। তবে দেড় বছরের মাথায় বিএনপি ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা এবং সংবিধান বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে মান্না বলেন, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধান পরিষদ গঠনের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মান্না বলেন, বিভিন্ন স্থানে হামলা, সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটছে। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এমন ঘটনায় শুধু মালিক নয়, সেখানে কর্মরত ব্যক্তিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন।
সম্প্রতি একটি বাড়ি ভাঙার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই বাড়ির এক নারী ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বগুড়ার শিবগঞ্জে নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে মান্না অভিযোগ করেন, মামলার কপি পাওয়া যায়নি এবং তিন দিন ধরে জজ আদালত বসেনি। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন মান্না। তাঁর দাবি, প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, অথচ বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচনের পর খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হলেও বর্তমানে তা আর আগের মতো দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিন্নুর আহমেদ চৌধুরী দীপু ও দেলোয়ার হোসেন রাজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিব আনোয়ার, সদস্যসচিব ফেরদৌসী আক্তারসহ দলের অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। সভা সঞ্চালনা করেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন।