দেশের সব দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

অনলাইন ডেস্ক

স্বাস্থ্য

বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত সব ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক

2026-07-29T16:48:16+00:00
2026-07-29T16:48:16+00:00
  বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
স্বাস্থ্য
দেশের সব দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ৪–১০ বছরের শিশুরা
অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৮ পিএম 
প্রতীকী ছবি
বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত সব ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক গবেষণায় পরীক্ষা করা ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, দুধের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরাই এ দূষণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।

দেশের বাজারে বিক্রিত কাঁচা দুধ, প্যাকেটজাত তরল ও গুঁড়া দুধ এবং বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের গবেষকরা।

‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস কনটামিনেশন অব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্টস ইন বাংলাদেশ: ক্যারেক্টারাইজেশন, ডায়েটারি এক্সপোজার অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণাটি সানাউল্লাহ মাজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৩–২৪ অর্থবছরের গবেষণা অনুদানে পরিচালিত এ গবেষণায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও সুপারশপ থেকে মোট ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণায় ১৭টি কাঁচা দুধ, ১২টি ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ এবং ১২টি অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য পরীক্ষা করা হয়। মাইক্রোস্কোপ ও এফটিআইআর প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিটি নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত দুধে। প্রতি ১০০ মিলিলিটারে সেখানে গড়ে ১৫৬ দশমিক ৬টি কণা শনাক্ত হয়েছে। কাঁচা দুধে এ সংখ্যা গড়ে ৯৩ দশমিক ৩৯টি এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যে ৭০ দশমিক ৮০টি।

গবেষকদের ধারণা, দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং কারখানার যন্ত্রপাতি বা প্লাস্টিক পাইপের সংস্পর্শে এসে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা দুধে মিশতে পারে।

পরীক্ষায় পাওয়া অধিকাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল স্বচ্ছ, আঁশের মতো এবং আকারে ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম। এছাড়া নমুনাগুলোতে টেফলন (পিটিএফই), পিইটি, নাইলন-৬, পলিইথিলিন, পিডিএমএস ও পলিস্টাইরিনসহ বিভিন্ন ধরনের পলিমার শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, তাদের শরীরের ওজন তুলনামূলক কম এবং দুধের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি হওয়ায় শরীরের ওজনের অনুপাতে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের হার প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি হতে পারে।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুগ্ধ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নত ফিল্টারিং প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিয়মিত মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন গবেষকরা। পাশাপাশি এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা ও কার্যকর নজরদারিরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


Loading...
Loading...

স্বাস্থ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: