জনপ্রিয় কথাসাহিত্যক হুমায়ুন আহমেরে ১৪তম মৃত্যু বার্ষিকী ছিল গতকাল রোববার। দিনটি উপলক্ষে লেখকের অমর সৃষ্টি নুহাশপল্লীতে দিনব্যাপী চলে মিলা, কোরআন তেলওয়াত ও মিলাদ মাহফিল। এ ছাড়া এতিমরে খাবার বিতরণসহ নেয়া হয় নানা কর্মসূচী। এদিন সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হুমায়ুন পরিবার, তার ভক্ত, কবি, লেখক আর নাট্যজনদের ভিড় লেখকের কবরে নুহাশপল্লীর লিচু তলায়। ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করেন জনপ্রিয় এ লেখককে।
তবে নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন ভক্তদের জন্য একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি বা পাঠাগার স্থাপনের দাবির প্রেক্ষিতে তার সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন জানিয়েছেন, সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত লাইব্রেরি করার কোনো পরিকল্পনা তাদের আর নেই।
সরেজমিনে নূহাশ পল্লী ঘুরে খো গেছে, বৃষ্টি আর সবুজ প্রকৃতিকে বড্ড বেশি ভালোবাসতেন নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমে। তাই তার বিয়োগ দিনে অমর কানন নূহাশ পল্লীতে গতকাল সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা। হলু পাঞ্জাবী পরা হিমু পরিবারের সদস্যরাও আসেন। কবরে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীতে কোরআনখানি, দোয়া, মিলাদ ও এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণসহ নেওয়া হয় নানা আয়োজন। আশপাশের কয়েকশ’ এতিম শিশু দিনব্যাপী এসব অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
প্রয়াত হুমায়ূন আহমেরে স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন তার দুই পুত্র নিষা ও নিনিদকে সঙ্গে নিয়ে নুহাশ পল্লীতে সাড়ে ১১টার দিকে হুমায়ুন আহমেদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পন করেন। তিনি এসময় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়ায় অংশ নেন। এছাড়া হুমায়ন ভক্ত, হিমু ও রুপার চরিত্র সেজে প্রিয় লেখকের কবরে পুস্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অনেকে।
কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ চলে গেছেন আজ ১৪ বছর। নূহাশ পল্লীর কর্মকর্তা ও আমরাই হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ও মৃত্যুদিন পালন করে থাকি। এর বাইরে সরকার, রাষ্ট্র কারও কাছে কিছু চাওয়ার নেই, আগেও ছিল না।
নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, দিবসটি উপলক্ষে ভোর থেকেই আশপাশের কয়েকটি মাদরাসা ও এতিমখানার ছাত্ররে দিয়ে নুহাশপল্লীতে কোরআন তিলাওয়াত করানো হয়। পরবর্তীতে হুমায়ূন আহমেরে দুই সন্তান নিষা ও নিনিতসহ স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, পরিবারের সদস্য এবং ভক্তরা কবর জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন।
নুহাশপল্লীতে আগত দর্শনার্থীরা বলছেন, হুমায়ূন না থাকলেও তিনি তার অমর সৃষ্টির মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা এক ভক্ত জানান, জনপ্রিয় লেখক বাঙালি পাঠক সমাজকে এক অভাবনীয় আনন্দ দিয়েছেন এবং বাংলা ভাষা যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি পঠিত হবেন। তাকে স্মরণ করতেই প্রতি বছর এই নিভৃত পল্লীগ্রামে ভক্ত ও অনুরাগীরা ছুটে আসেন। তবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাঠকদের সুবিধার্থে নুহাশপল্লীতে একটি লাইব্রেরির ব্যবস্থা থাকলে প্রিয় লেখকের বই পড়া ও স্মৃতিচারণের সুযোগ তৈরি হতো বলে মনে করেন তিনি।
অন্য প্রকাশের স্বত্তাধিকারী মাজহারুল ইসলাম বলেন, হুমায়ূন আহমেদ তার লেখা বই, চলচ্চিত্র, গান, পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে মানুষের মাঝে আছেন। একুশের বইমেলায় তার নতুন বই নেই, কিন্তু পুরনো বই পুনঃমুদ্রণ হচ্ছে। ১৪ বছর পরও পাঠকরা তার বই পড়ছে, নতুন পাঠক তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষকে বই পড়া শিখিয়েছেন হুমায়ূন আহমে। এটি একজন লেখক হিসাবে তার একটি বড় প্রাপ্তি।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমে। তার বাবা ফয়েজুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ। ২০১২ সালে ১৯ জুলাই মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান। তবে বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী হুমায়ুন তার সৃষ্টিশীল কর্মের মাধ্যমে একুশের ভক্ত ও অনুরাগীদের হৃয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন- এমনটাই প্রত্যাশা লেখকের অনুরাগীদের।