আগামী অক্টোবরকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচন আয়োজনের আগে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় প্রয়োজন হওয়ায় এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রিসি (আরএফইডি) আয়োজিত ফল উৎসবে তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে লিখিত ও অলিখিত আলোচনা ছাড়া এখন স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য যৌক্তিক হবে না। তবে আমরা অক্টোবরকে সামনে রেখে সব কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। অক্টোবরে নির্বাচন হলে তার ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকারের সীমানা নির্ধারণ ও এ-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দ্রুত সরকারকে চিঠি দেওয়া হবে। পাশাপাশি যেসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সীমানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে, সেগুলোর তালিকাও সরকারকে ইসির কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হবে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠান কার্যত শূন্য। তবে একটি নির্বাচন অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কিত। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা পদাধিকারবলে উপজেলা পরিষদের সদস্য হন। তাই পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচন ছাড়া উপজেলা পরিষদ গঠন সম্ভব নয়। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আলাদাভাবে করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, আইনের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সব নির্বাচন একই সময়ে চলে আসায় নির্ধারিত সময়সূচি মেনে সবকিছু সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে। কোন নির্বাচন জনগণের জন্য বেশি জরুরি এবং কোথায় মানুষ বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে—এসব বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মাছউদ বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও একই মান বজায় রেখে আয়োজন করতে কমিশন সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।
অনুষ্ঠানে আরেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা ইতোমধ্যে সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব এ বিষয়ে নিয়মিত অগ্রগতির তথ্য জানাবেন।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধির খসড়া কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের লক্ষ্যে আইনও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের মতোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে চায় কমিশন।
আরএফইডি’র সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম উদ-দৌলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ ও আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল।