রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একজন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী এই আবেদন দায়ের করেছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত হাসপাতালটিকে ঘিরে নতুন আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা রিটে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রিটের সঙ্গে হাসপাতাল প্রশাসনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এটি সম্পূর্ণভাবে আবেদনকারীর নিজস্ব উদ্যোগ।
গত ১১ জুন স্বাস্থ্য খাতের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় হাসপাতালকে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।
ফলে প্রশাসনিক ও আইনি—দুই পথই এখন হাসপাতালটির সামনে খোলা রয়েছে।
লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত মাসের একটি আলোচিত ঘটনা। মে মাসের শেষ সপ্তাহে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিটে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মৃত্যুবরণকারী শিশুদের বয়স ছিল মাত্র এক থেকে তিন দিন। তাদের অধিকাংশের নামও তখনো রাখা হয়নি।
ঘটনার পরপরই চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ সামনে আসে। নিহত এক নবজাতকের বাবা সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অবহেলা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়।
এ ঘটনার পর হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায় নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও নিজস্ব তদন্ত শুরু করে এবং প্রথমে প্রতিবেদন প্রকাশের ঘোষণা দিলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফলাফল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, একসঙ্গে একাধিক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা শুধু একটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নয়, বরং দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান, তদারকি ও জবাবদিহির বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। ফলে এই ঘটনার পর নেওয়া সরকারি পদক্ষেপ এবং তার আইনি চ্যালেঞ্জ উভয়ই জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
এখন আদালতে দায়ের হওয়া রিটের মাধ্যমে বিষয়টি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে কি না, অথবা বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হবে কি না। একই সঙ্গে চলমান তদন্তের ফলাফলও এ ঘটনায় ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা, হাসপাতাল পরিচালনার দায়বদ্ধতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নগুলো আরও গভীরভাবে আলোচনায় আসবে। তাই আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ঘিরে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এখন স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে।