দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গের একটি বস্তি এলাকায় বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে ক্লিভল্যান্ড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও স্থানীয় পুলিশের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি সাদা টয়োটা কোয়ান্টাম গাড়িতে করে ১০ জনের বেশি সশস্ত্র ব্যক্তি একটি পেট্রল স্টেশনের কাছে এসে পৌঁছায়। পরে তারা বস্তির দুটি প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়।
হামলার পরপরই বন্দুকধারীরা একই গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের হাসপাতালে নিতে জরুরি চিকিৎসাসেবা দলও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই আটজন পুরুষ ও তিনজন নারী নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন পুরুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ অন্তত ৯ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে।
বিশ্বে হত্যাকাণ্ডের উচ্চহারের দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যতম। দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ জন মানুষ হত্যার শিকার হন। বিশেষ করে বস্তি ও দরিদ্র এলাকায় গ্যাং সহিংসতা এবং ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত বছর জোহানেসবার্গের একটি ট্যাভার্নে সংঘটিত গণগুলিবর্ষণের ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছিল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় ৩০ লাখ বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। অস্ত্র মালিকদের সংগঠন দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দুক মালিকদের সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে অবৈধ অস্ত্রের সংখ্যাও প্রায় সমপরিমাণ হতে পারে। পুলিশ ধারণা করছে, অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতাও সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
স্থানীয় অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এসব অবৈধ বসতিতে প্রায়ই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্যাং-সহিংসতা বা ব্যক্তিগত পুরোনো বিরোধের জেরে এমন রক্তপাত ঘটে। এর আগে গত বছরও জোহানেসবার্গের একটি মদের দোকানে (ট্যাভার্ন) বন্দুকধারীদের এমন এক হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছিলেন।