মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি ও যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পাস হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটি ২১৫–২০৮ ভোটে অনুমোদন পায়, যেখানে চারজন রিপাবলিকান সদস্যও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন।
ভোটের ঠিক আগে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করতে নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের আহ্বান জানান রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন। তিনি সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “বিপজ্জনক” হতে পারে এবং এটি ভবিষ্যতের যেকোনো কূটনৈতিক দর-কষাকষিতে প্রেসিডেন্টের অবস্থান দুর্বল করবে।
তবে তার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও প্রস্তাবটি পাস হওয়ায় বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে।
সিনেটে কী হতে পারে
এখন প্রস্তাবটি যাবে মার্কিন সিনেটে। ধারণা করা হচ্ছে, ১০০ সিনেটরের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সদস্য এর পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন। যদি সেখানে এটি পাস হয়, তবে প্রেসিডেন্টকে ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহার বা যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হতে পারে।
তবে হোয়াইট হাউস এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকরভাবে মানবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রশাসন চাইলে এটিকে উপেক্ষাও করতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের ওপর
প্রস্তাব পাস হওয়া শুধু একটি আইনগত ঘটনা নয়, বরং রাজনৈতিক চাপের একটি বড় সংকেত বলেও মনে করা হচ্ছে। নিজ দলের ভেতর থেকেই বিরোধিতা এবং ভোট বিভাজন ট্রাম্পের অবস্থানকে আরও দুর্বল করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
একই সময়ে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরান যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা।
সামনে কঠিন সময়
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধ থেকে “সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসা” ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আলোচনা ও সমঝোতার যে আশাবাদ তিনি প্রকাশ করছেন, কংগ্রেসের সাম্প্রতিক ভোট সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে—ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে, এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।