গরমকালে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অনেকেই এটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে তা শুধু স্বাস্থ্যেই নয়, ত্বকের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে। এতে ত্বক দ্রুত নিস্তেজ ও বয়সী দেখাতে শুরু করে।
ডিহাইড্রেশন হলে শরীরের তরল ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং পেশিতে টান ধরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে ত্বকের আর্দ্রতা কমে গিয়ে এটি রুক্ষ ও অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ে।
চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় পানিশূন্যতায় থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। ফলে সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমনকি তৈলাক্ত ত্বকেও ডিহাইড্রেশন হতে পারে, যা অনেক সময় ভুল বোঝা হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বারবার ডিহাইড্রেশন হলে ত্বকের সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে যায় এবং কোলাজেন ক্ষয়ের হার বাড়তে পারে। এর ফলে অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি তৈরি হয়, বিশেষ করে সূর্যের আলো, দূষণ ও মানসিক চাপের সঙ্গে মিললে এর প্রভাব আরও বেড়ে যায়।
গবেষণা বলছে, পর্যাপ্ত হাইড্রেশন না থাকলে ত্বক নিজেকে ঠিকভাবে মেরামত করতে পারে না, ফলে বয়সের ছাপ দ্রুত দৃশ্যমান হয়।
তবে আশার কথা হলো, ডিহাইড্রেশনজনিত ত্বকের সমস্যা অনেক ক্ষেত্রেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব। নিয়মিত পানি পান, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সানস্ক্রিন ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, শুধু পানি পান নয়-ফল, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও ত্বককে দীর্ঘ সময় তরুণ ও সতেজ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।