সুস্থতা একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সুস্থ থাকার জন্য নিয়ম মেনে কিছু কাজ করা জরুরি। কিন্তু আমরা ক’জনেই বা তা মেনে চলি! বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙাই হয় বেশি। তবে বেশি কিছু নয়, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া আর নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে সুস্থতা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়।
আধুনিক নগরজীবনে বহুতল ভবনে ওঠানামার জন্য লিফট এখন প্রায় অপরিহার্য। তবে সহজ এই সুবিধার মাঝেও বিশেষজ্ঞরা যতটা সম্ভব সিঁড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ নিয়মিত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা শরীরের জন্য কার্যকর ব্যায়ামের কাজ করে।
কানাডার ম্যাক মাস্টার ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিঁড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে শরীরের ক্যালোরি খরচ হয় এবং অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহায়তা করে। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সিঁড়ি ভাঙার অভ্যাস হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামার সময় শরীরে ‘ফিল গুড’ হরমোনের নিঃসরণও বাড়ে, যা মানসিক চাপ কমাতে এবং মন ভালো রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া সিঁড়ি ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে পায়ের হাড় ও পেশি শক্তিশালী হয়।
গবেষকদের মতে, জিমে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করে যে উপকার পাওয়া যায়, অনেক ক্ষেত্রে তার কাছাকাছি উপকার তুলনামূলক কম সময় সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার মাধ্যমেও পাওয়া সম্ভব।
আরও একটি কার্যকর কৌশল হলো-ওঠার সময় একসঙ্গে দুটি ধাপ অতিক্রম করা। এতে শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং পেশির কার্যক্ষমতা উন্নত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
তবে তাই বলে একবারেই অনেক তলা সিঁড়ি ভাঙার প্রয়োজন নেই। যদি বাসা বা অফিস অনেক উঁচু ভবনে হয়, তাহলে শুরুতে কয়েক তলা পর্যন্ত সিঁড়ি ব্যবহার করে বাকি পথ লিফটে যেতে পারেন। ধীরে ধীরে সক্ষমতা অনুযায়ী সিঁড়ি ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।
তবে হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, হাঁটু বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।