আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কম খরচে কার্যকর অস্ত্রের চাহিদা বাড়তে থাকায় এবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে দীর্ঘপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। ইরানের বহুল আলোচিত ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের আদলে তৈরি হতে যাওয়া এই নতুন ড্রোনের নাম রাখা হয়েছে ‘স্কাইওয়াস্প’।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোর-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেক্টর ডিফেন্স এবং সৌদি স্টার্টআপ এসআর২ ডিফেন্স সিস্টেমস যৌথভাবে রিয়াদের কাছে একটি ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করছে। সেখানেই দেশীয়ভাবে স্কাইওয়াস্প ড্রোন তৈরি করা হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটির সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত নিরাপত্তা বিবেচনায় পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সক্ষমতা সৌদি আরবকে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নতুন সুযোগ এনে দিতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তুলনামূলক কম খরচে কার্যকর আক্রমণাত্মক অস্ত্রের গুরুত্ব বেড়েছে। ব্যয়বহুল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে সস্তা ও গণহারে উৎপাদনযোগ্য ড্রোন এখন অনেক দেশের সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিইপিএ (CEPA)-এর নন-রেসিডেন্ট ফেলো ফেদেরিকো বোরসারি মনে করেন, নতুন এই প্রকল্প সৌদি আরবের দূরপাল্লার হামলা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এ উদ্যোগকে সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক হলেও, দশকের শেষ নাগাদ নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অর্ধেক স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নতুন ড্রোন প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কাইওয়াস্প প্রকল্প সফল হলে সৌদি আরব শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক প্রযুক্তি খাতেও নতুন অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
সূত্র: আল-মনিটর ও সেমাফোর