নয়াদিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধস, শতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণাঞ্চলে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভবনটিতে মেডিক্যাল কোচিং সেন্টার, করপোরেট অফিস ও খাবারের

2026-05-31T16:07:43+00:00
2026-05-31T16:24:00+00:00
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
  ই-পেপার   
           
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
নয়াদিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধস, শতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়ার শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম  আপডেট: ৩১.০৫.২০২৬ ৪:২৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণাঞ্চলে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভবনটিতে মেডিক্যাল কোচিং সেন্টার, করপোরেট অফিস ও খাবারের দোকান থাকায় ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিলো। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ১০০ থেকে ১৫০ জন আটকে থাকতে পারেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া শিক্ষার্থী।

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ৮টার দিকে হঠাৎ পুরো ভবনটি ধসে পাশের একটি অস্থায়ী টিনের ছাউনি দেওয়া ক্যান্টিনের ওপর পড়ে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ প্রতিবেদনে জানা যায়, এ ঘটনায় পর পুরো এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। লোহার রড, ভাঙা পিলার ও কংক্রিটের চাঁই চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীসহ একাধিক সংস্থা যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ধসে পড়া ভবনটিতে একটি মেডিক্যাল কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে ও করপোরেট অফিস ছিল। ভবনটির তৃতীয় তলায় বেশ কিছুদিন ধরে নির্মাণকাজ চলছিল।

গণমাধ্যমের তথ্য মতে, দুর্ঘটনার সময় ওই ক্যান্টিনে বহু শিক্ষার্থী রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা রবীন্দ্র সিং জানান, ভবনটি মাত্র চার-পাঁচ বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল। এখানে কোচিং সেন্টার ও অফিস থাকায় সব সময় তরুণ-তরুণীদের ভিড় থাকত। ঘটনার সময় ক্যান্টিনে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষ আটকে থাকতে পারেন, যাদের বড় একটি অংশই মেডিক্যাল ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থী।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দে চারদিক ধুলার মেঘে ঢেকে যায়। ধুলো সরলে আমরা দেখি ভবনটি পুরোপুরি ধসে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শুধু বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার আর কান্নার আওয়াজ আসছিল।

ধসে পড়া ভবনের পাশে ‘অ্যারাইজ মেডিক্যাল একাডেমি’তে পিজি প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সদ্য বিদেশ থেকে এমবিবিএস পাস করা শিক্ষার্থী নীলম (২৫)। তার বাবা বলবন্ত যাদব জানান, নীলম দুর্ঘটনার সময় পাশের ক্যান্টিনেই ছিলেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার পা ভেঙে গেছে এবং বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে দুর্ঘটনাস্থলে আলো জ্বালিয়ে (ফ্লাডলাইট) উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের খোঁজে স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করেছেন। নিখোঁজদের সঠিক তথ্য না পেয়ে অনেকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসসহ বিভিন্ন হাসপাতালে হন্যে হয়ে ছুটছেন।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (ডিএফএস) জানিয়েছে, খবর পেয়ে প্রথমে তিনটি দমকল ইঞ্জিন পাঠানো হলেও পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় আরো বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ও জরুরি গাড়ি মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। স্টিলের গার্ডার ও কংক্রিট কাটার জন্য হাইড্রোলিক কাটার এবং জ্যাক ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করতে ভিকটিম-লোকেশন ক্যামেরা, আর্থ-অগার ড্রিলিং মেশিন এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত স্নাইপার ডগ (সন্ধানী কুকুর) ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ধর্মবীর সিং জানান, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটকে পড়াদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিপিসি) অনন্ত মিত্তাল জানান, সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে পুলিশ ভবন ধসের খবর পায় এবং তিন মিনিটের মধ্যে মেহরাউলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ভবনটির মালিকানা কার ছিল, ভবন নির্মাণের জন্য যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না এবং নির্মাণকাজে কোনো গাফিলতি ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: