রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার রাতে হাবিবুর রহমান নামে এক নবজাতকের বাবা রাজধানীর রমনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, মামলার এজাহারে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
গত বুধবার সকালে হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিনের মধ্যে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে ওয়ার্ডে থাকা নবজাতকেরা হঠাৎ কান্নাকাটি শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই একে একে সব শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কেউই বাঁচেনি। কয়েকটি শিশুর শরীর নীলচে হয়ে গিয়েছিল বলেও দাবি করেন স্বজনেরা।
এ বিষয়ে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয় নবজাতক ছিলেন। মায়েদের অনুরোধে গভীর রাতে এসি বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর রাত চারটার দিকে দুটি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে সকালে আরও কয়েকটি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে ছয়জনকেই এনআইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও শিশুদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডটি সিলগালা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সেখান থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কোনো ক্ষতিকর গ্যাসের উপস্থিতি ছিল কি না, তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
পরে স্বজনদের কাছে নবজাতকদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্তে সম্মতি না দেওয়ায় তা ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।