বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আর এই জয়ের দ্বিতীয় দিনেই উত্তর ভারতের ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার হগ মার্কেট বা নিউমার্কেটে দোকানঘরে বুলডোজার চালানো শুরু হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে বুলডোজার দেখতে পান তারা। যেটি দিয়েই দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছিল। উচ্চ শব্দে ডিজে চালিয়ে বিজেপির স্লোগান “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি দেওয়া হচ্ছিল।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশের অনুমতি নিয়ে বের করা ওই মিছিলে পরিকল্পিতভাবে বুলডোজার আনা হয়েছিল এবং প্রকাশ্য দিবালোকে জয়ের উদ্যাপন হিসেবে একটি দোকান ভাঙা হয়েছে। ডেরেক সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, সিআরপিএফ কর্মীদের উপস্থিতিতে কীভাবে এই ধরনের তাণ্ডব চালানো সম্ভব হলো।
এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের অনুমতি নিয়েই এই বিজয় মিছিল বের করা হয়েছিল। সেখান থেকেই সিআরপিএফের উপস্থিতিতে নাকি ভাঙা হয় নিউমার্কেটের একটি মাংসের দোকান।নিয়মের তোয়াক্কা না করে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে। ভোটের প্রচারে তৃণমূল বারবার দাবি করেছিল যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়ায় কোপ পড়বে। নিউমার্কেটের এই ঘটনার পর সেই পুরনো বিতর্কই এখন শাসকদলের হাতে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন, বাঙালি সংস্কৃতিতে মাছ-মাংসের গুরুত্ব তারা বোঝেন এবং কোনো প্রকার হিংসাকেই দল প্রশ্রয় দেবে না। তিনি উল্টো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তৃণমূলের একটি অংশ বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দলের বদনাম করার চেষ্টা করতে পারে।