
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার (৫ মে) চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বেইজিং সফর।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সফরের সময়সূচি অনুযায়ী, ৫ মে থেকে ৭ মে পর্যন্ত ড. খলিলুর রহমান চীনে অবস্থান করবেন এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার (সিপিসি) পলিটিক্যাল ব্যুরোর পররাষ্ট্রবিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র বিশেষ আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বেইজিংয়ে অবস্থানকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার চীনা সমকক্ষ ওয়াং ই’র সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই সফরটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি চীনে দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফর। এর আগে গত ২০ এপ্রিল স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চীন সফর করেছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের ১৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদলও দেশটি সফর করে এসেছে।
ধারাবাহিক এই সফরগুলো দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকে আরও নতুন মাত্রা দিচ্ছে। বিশেষ করে খনিজ সম্পদ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই সফরটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের এই সফরে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে চীনা অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা হতে পারে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেইজিং সফর শেষ করে আগামী ৭ মে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সম্পর্কের রূপরেখা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।