ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় হঠাৎ করেই পরিবর্তন এসেছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। তাদের দাবি, আলোচনার মাঝখানে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-কে ফোন করার পরই পরিস্থিতি বদলে যায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, শুরুতে আলোচনায় কিছুটা ইতিবাচক পরিবেশ ছিল। তবে ওই ফোনকলের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কঠোর হয়ে ওঠে এবং আলোচনার দিক পরিবর্তিত হয়।
তিনি আরও বলেন, ইরান আন্তরিকভাবেই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছে, তা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ইরানের অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়াশিংটন শুধু হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচলই নয়, বরং ইরানের পুরো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ এবং বিদ্যমান মজুদ হস্তান্তরের দাবিও জানিয়েছে।
এই প্রস্তাবগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র “চূড়ান্ত” বলে উল্লেখ করলেও ইরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এসব শর্ত তাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যায়।
এদিকে, নেতানিয়াহুর ফোনকলের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার—কোনোটিই করেনি ওয়াশিংটন।
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। বিশ্লেষকরা বলছেন, অনিশ্চয়তা বাড়লে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে। যুদ্ধবিরতির আগে যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৯ ডলারের ওপরে ছিল, পরে তা কমে ৯৫ ডলারে নেমে আসে। তবে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে দাম আবার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আলোচনার এই অচলাবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।