হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ইরানের সামরিক স্থাপনায় শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা হামলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ড United States Central Command জানায়, উপকূলবর্তী সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে প্রায় ২,২০০ কেজি ওজনের একাধিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
মার্কিন পক্ষের অভিযোগ, এসব গোপন ঘাঁটি থেকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সচল রাখতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তাদের।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রণালীর উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। পারস্য উপসাগর তীরবর্তী সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাক থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রধান পথ এটি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরান হুঁশিয়ারি দেয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই বলছে, যেকোনো মূল্যে তারা হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখবে। প্রয়োজনে নৌবাহিনী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ইস্যুতে ন্যাটো জোটের সহায়তাও চেয়েছিলেন। তবে প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট করে দেন—প্রয়োজনে একাই পদক্ষেপ নেবে ওয়াশিংটন।
এরই মধ্যে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতায় ‘স্থায়ী ক্ষতি’ নিশ্চিত করতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তার দাবি, ইরানকে পারমাণবিক হুমকি হয়ে ওঠা থেকে ঠেকানোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম (বিবিসি, গালফ নিউজ)