বাঙালির শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির লড়াইয়ে বুদ্ধিভিত্তিক মনস্তত্ত্ব গঠনে ভূমিকা রেখে যারা অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন,জাতির সেই সূর্যসন্তানদের স্মরণে মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে পালিত হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৫।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম।
রবিবার (১৪ই ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় হাইকমিশনের মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ সভায় অংশ নিয়েছেন মিশনের শ্রম কাউন্সেলর মো. সোহেল পারভেজ ও মিশনের অন্যান্য কর্মকর্তার-কর্মচারীসহ দেশটিতে বসবাসরত অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেরিত বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে হাইকমিশনারের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান ও কল্যাণ সহকারী মো. আল-মামুন পাঠান।এরপরই ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাইকমিশনারের নেতৃত্বে মিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা ও আমন্ত্রিত সকল অতিথিরা এক মিনিট দাড়িয়ে নিরবতা পালন করেন।
এসময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস,বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা এবং এর পেছনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রবাসীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মো. খলিলুর রহমান ও বাংলাদেশ ফোরাম মালদ্বীপের সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে,১৯৭১ সালে নিহত সকল শহীদ বুদ্ধিজীবীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এবং স্বাধীনতা অর্জন ও দেশ গঠনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।এসময় দেশের সকল নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করলেই একটি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেও যোগ করেন হাইকমিশনার।
এছাড়াও হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ–এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও ভোটদানে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সকল ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করে এবং দেশের সার্বিক কল্যাণ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।