শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ৫ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে, প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার পর থেকেই গ্রামগঞ্জের তৃণমূল রাজনীতিতে ভোটের আমেজ শুরু হয়েছে। একদিকে ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ, অন্যদিকে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে পূজামন্ডপগুলোতে হাজির হচ্ছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যাযের নেতারা স্ব স্ব এলাকার মন্দির পরিদর্শন, শুভেচ্ছা বিনিময়, নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং নগদ আর্থিক সহায়তার মধ্য দিয়ে জোরেশরে জনসংযোগ চালাচ্ছেন।
পূজার আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে পূজামন্ডপের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন এবং ইমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করার পাশাপাশি সারা দেশে স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে এই তৎপরতা এখন দৃশ্যমান। সরোজমিন দেখা যায়, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী নাসিম কাজী উপজেলার মন্দির/মন্ডপগুলো পরিদর্শন করে আর্থিক সহযোগিতা করে বিএনপির শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দিতে দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় প্রার্থীরা পূজামন্ডপ পরিদর্শন করে আর্থিক সহায়তা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জোরদার করছেন। ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমানের উদ্যোগে তার নেতাকর্মীদের নিয়ে স্থানীয় ৮৭টি মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং তিন পালায় মন্ডপ পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
একইভাবে গাজীপুরের শ্রী শ্রী ইন্দ্রেশ্বর শিবমন্দিরে মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকারের উপস্থিতিতে ১০৭টি পূজামন্ডপে ১০ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ৩৪টি পূজামন্ডপে মোট ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিতরণ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এবং এতে সংরক্ষিত আসনের এমপি মাধবী মারমার পাঠানো উপহার সামগ্রীও বিতরণ করা হয়।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের পক্ষে বিএনপির স্থানীয় নেতা মো. আলমগীর বিভিন্ন মন্ডপে ৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা ও গ্রাম পুলিশের সদস্যদের মাঝে বস্ত্র উপহার দেন। নওগাঁর মান্দায় বিএনপি নেতা এম এ মতীন তেঁতুলিয়া, ভারশোঁ, কুসুম্বা ও প্রসাদপুরসহ একাধিক ইউনিয়নের মন্ডপে নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। খুলনা ও লক্ষ্মীপুরেও পূজার নিরাপত্তা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে দলীয় কার্যক্রম বেগবান হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নেতারা তার নিজস্ব সম্বাব্য প্রার্থীকে (মাইম্যান) মন্ডপে মন্ডপে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। একইসাথে দলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লষকদের মনে করেন, দুর্গাপূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও অনুদানমূলক কর্মসূচি ধর্মীয় সম্প্রীতির পাশাপাশি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জনসম্পৃক্ততা ও অবস্থান শক্ত করতে বড় ভূমিকা রাখছে।