‘নিজের ইচ্ছাতেই পদত্যাগ’, ইশরাকের ঘোষণায় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৩ পিএম আপডেট: ১৯.১০.২০২৬ ৩:২০ পিএম
সংগৃহীত ছবিমুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পদত্যাগের আবেদনে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূলসহ স্থানীয় সমস্যার সমাধানে বেশি সময় দিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন ইশরাক।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় সাম্প্রতিক বিভিন্ন আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাক বলেন, তাঁকে লক্ষ্য করে কিছু তথ্য অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তাঁর পাশাপাশি দলকেও বিব্রত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য জনসমস্যা সমাধানে কাজ করার ইচ্ছার কথা জানালে প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইশরাকের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়। নিজ নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ব্যক্তিগত অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে এর আগে ইশরাক ওই খবরকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছিলেন।
সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার কথা জানান তিনি।
নির্ধারিত সময়ের পর বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে প্রেসক্লাবে উপস্থিত হন ইশরাক। জনসমাগম ঘিরে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণকারী সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলাকে কেন্দ্র করেও হট্টগোল হয়। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইশরাক বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের কিছু সত্য হলেও কিছু অংশ অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দলের ওপরও।
ইশরাকের ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হলেও পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।