সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জুলাই স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ চার পরিবারের সদস্য তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনে অংশ নেন।
প্রায় এক একর জায়গার ওপর নির্মিত স্মৃতিসৌধটির উচ্চতা ৯০ ফুট। এতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ৮৩৪ শহীদের নাম লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে। সামনে রয়েছে ২০টি প্রতীকী কবরের চিহ্ন।
স্মৃতিসৌধের ভেতর ও বাইরের রিলিফচিত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন অধ্যায় এতে স্থান পেয়েছে।
স্মৃতিসৌধের বাইরের রিলিফচিত্রটি ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু। ভেতরের রিলিফচিত্রের দৈর্ঘ্য ১৭১ ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে ৭ ফুট।
আধুনিক সুবিধায় নতুন ওসমানী উদ্যান
অন্যদিকে, রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানকে সংস্কার করে আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে সাজানো হয়েছে। ২৩ একর জায়গাজুড়ে পরিচালিত এ উন্নয়নকাজে পুরোনো গাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ, সবুজ দ্বীপ তৈরি এবং জলাধার সংস্কার ও নতুন জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে।
নগরবাসীর হাঁটা ও শরীরচর্চার জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে। উদ্যানটিতে রয়েছে জিমনেশিয়াম, প্যাগোডা, পাবলিক টয়লেট, পার্কিং সুবিধা এবং জলাধারে যাওয়ার ব্যবস্থা।
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি রেইনওয়াটার হারভেস্টিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। উদ্যানের নকশায় রয়েছে দ্বিস্তরবিশিষ্ট বিন্যাস। এর অংশ হিসেবে সড়কের উচ্চতা থেকে দুই মিটার ওপরে নির্মাণ করা হয়েছে একটি উঁচু পথ।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি সংস্কার করা ওসমানী উদ্যানের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং পাশের গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ-এ আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।