ভুলবশত ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা জারি করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)। এ ঘটনায় লাখ লাখ মানুষের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পৌঁছায় এবং সাময়িকভাবে গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্বেগ ও ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানায়, দেশটির কাছাকাছি কুরিল দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় ৯.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। জাপানে এ দ্বীপপুঞ্জ ‘চিশিমা দ্বীপপুঞ্জ’ নামে পরিচিত। তবে পরে সংস্থাটি জানায়, প্রকৃতপক্ষে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের কাছে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।
জেএমএর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুরের কিছুক্ষণ পর ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থল নির্ণয়ের হিসাবের ত্রুটির কারণে প্রথমে ভূমিকম্পের মাত্রা ভুলভাবে নির্ধারণ করা হয়।
সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় জাপান থেকে প্রায় ৬৮০ কিলোমিটার দূরে বলে ভুল ধারণা করা হয়েছিল। ওই ভুল হিসাবের ভিত্তিতেই ৯.৯ মাত্রার সতর্কবার্তা জারি করা হয়। পরে ভুলটি শনাক্ত হলে সতর্কবার্তা প্রত্যাহার করা হয়।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার কর্মকর্তা শিনিয়া সুকাদা সাংবাদিকদের বলেন, জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অসুবিধা সৃষ্টি হওয়ায় তাঁরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
ভুল সতর্কবার্তার কারণে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়লেও সাময়িকভাবে গণপরিবহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তবে এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামির ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনো মানুষের মনে গভীরভাবে রয়েছে। ২০১১ সালের ১১ মার্চ দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলে ৯.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে। ওই দুর্যোগে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হন বা নিখোঁজ হন। একই ঘটনায় ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে তা ২০১১ সালের ভূমিকম্পের তুলনায় প্রায় ২২ গুণ বেশি শক্তি নির্গত করতে পারত। ফলে ভুল সতর্কবার্তাটি মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করলেও দ্রুত তা প্রত্যাহার করে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা।
সূত্র: এএফপি