
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আব্দুল হাই। শেষ পর্যন্ত আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আব্দুল হাইয়ের জানাজা বৃহস্পতিবার কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে প্রথম জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল ৪টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যার পর মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে তৃতীয় জানাজা এবং রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মিরেশ্বরাই আলিয়া মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আব্দুল হাই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়েও দলের কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল হাই। তাঁর বাবা মনির উদ্দিন ছিলেন ব্যবসায়ী। মুন্সীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৭৯ সালে প্রথমবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তাঁর সংসদীয় রাজনীতির সূচনা হয়। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঢাকা-৮ আসনে একবার এবং বিলুপ্ত মুন্সীগঞ্জ-৪ আসন থেকে তিনবার—মোট পাঁচবার জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।
পঞ্চম জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল হাই। পরে অষ্টম জাতীয় সংসদে প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবনে কঠোর নীতি, ব্যক্তিগত সততা, সাদাসিধে জীবনযাপন ও সহজ-সরল আচরণের কারণে নিজ এলাকায় ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিলেন তিনি। দলীয় পরিচয়ের বাইরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছেও তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা ছিল।
আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, দীর্ঘদিনের অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা।