‘একক প্রার্থী’ বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত, ঝুঁকি এড়াতে থাকবে বিকল্প প্রার্থী
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির (ক্লিন ইমেজ) প্রার্থীর খোঁজে মাঠে নেমেছে বিএনপি। প্রতিটি মহানগর থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ে কাজ শুরু করেছে দলটির হাইকমান্ড। বিজয় সুনিশ্চিত করতে এবার চার মানদন্ডে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকা স্বত্বেও বিএনপি একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনি জটিলতা কিংবা মনোনয়নপত্র বাতিলের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি আসনে ‘বিকল্প প্রার্থী’ ঠিক রাখবে দলটি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে মাঠপর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনপ্রিয়তার মূল পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে বিএনপি। প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি (ক্লিন ইমেজ), এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা, দলের প্রতি অবদান এবং জয়লাভের সম্ভাবনা—এই চারটি মানদন্ড নির্ধারণ করেছে। সমগ্র নির্বাচন কার্যক্রম ও প্রস্তুতি তদারকি করার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাঈল জবিউল্লাহ এবং বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাকে নিয়ে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা ও উপজেলা নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক সম্পন্ন করে প্রার্থীর যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা যাচাইয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা পাঠিয়েছে। প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ও স্বজনপ্রীতি রোধ করতে মূলত এ মানদন্ড ও তদারকি টিম করা হয়েছে।
‘একক প্রার্থী’ নিশ্চিতের কৌশল : ইউপি নির্বাচনে তৃণমূলে একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকায় দলীয় বিভাজন রোধ করাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি। এই সংকট কাটাতে প্রতিটি ইউনিয়নে ‘একক প্রার্থী’ সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এ জন্য জেলা ও বিভাগীয় নেতাদের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় পর্যায়ে গোপনে বিশেষ জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ের পর কোনো আইনি জটিলতা বা মনোনয়নপত্র বাতিলের ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প প্রার্থীর নামের তালিকাও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তবে দলের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কেউ ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের কোন্দল ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে একটি উদাহরণযোগ্য ও উৎসবমুখর ভোটের পরিবেশ বজায় রাখাকেই এখন প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি।
আইন অনুযায়ী এবার স্থানীয় নির্বাচন কোনো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, প্রতীক না থাকলেও নির্দিষ্ট ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থীর নাম সংবাদ সম্মেলন বা কর্মীসভার মাধ্যমে তৃণমূল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রতি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে জানিয়েছেন, বিজয়ী হতে হবে প্রার্থীর নিজস্ব সততা, যোগ্যতা ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে। সরকারের বা দলের পক্ষ থেকে ভোটে জয়ী হতে কোনো প্রকার অনুকম্পা বা প্রভাব বিস্তার করা হবে না।
নির্বাচন কমিশনের ৫ ধাপের রোডম্যাপ : গত সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ৫ ধাপের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২১ জানুয়ারি। পরবর্তী ধাপগুলো যথাক্রমে ৪ ফেব্রুয়ারি (দ্বিতীয় ধাপ), ২৯ এপ্রিল (তৃতীয় ধাপ), ১৩ মে (চতুর্থ ধাপ) এবং ২৭ মে (পঞ্চম ধাপ) অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ধাপের ভোটগ্রহণের জন্যই বৃহস্পতিবার দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্ধারিত ভোটের প্রায় ৩৮ থেকে ৪৫ দিন আগে স্ব-স্ব এলাকার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি প্রকাশ করবেন। আইন অনুযায়ী আগামী ২০২৭ সালের ২৭ মে-র মধ্যে দেশের সব ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ শেষ করা হবে। এছাড়া এ নির্বাচনে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ১০ লাখ টাকা এবং জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এ নির্বাচনে কোনো ইভিএম ব্যবহার করা হবে না এবং সরাসরি ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ।