চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একই সময়ে দুটি মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে মো. আবদুল্লাহ আমিন নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। একটি প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় অন্য একটি মাদ্রাসায় সুপার পদে নিয়োগ নিয়ে দায়িত্ব পালন ও বেতন নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আমিন গারাঙ্গিয়া ইসলামিয়া কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২১ সালে তিনি ঠাকুরদীঘি নুরুল কোরআন দাখিল মহিলা মাদ্রাসায় সুপার পদে নিয়োগ পান। তাঁর ইনডেক্স নম্বর এন-২০৯৭৫২০।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানেও দায়িত্ব পালন ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের পক্ষে নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, উপস্থিতি খাতা, শ্রেণি পাঠদানের রুটিন এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত নথি রয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রচারণা ও বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে নিজেকে ঠাকুরদীঘি নুরুল কোরআন দাখিল মহিলা মাদ্রাসার সুপার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. আবদুল্লাহ আমিন দ্বিতীয় মাদ্রাসা থেকে অর্থ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর দাবি, তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের সংগঠক, পরামর্শক বা পরিচালক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি সেখানে অর্থ অনুদান হিসেবে দেন, তাই প্রতিষ্ঠানটি থেকে টাকা নেওয়াকে তিনি অবৈধ মনে করেন না।
তবে দুটি প্রতিষ্ঠানে একই সময়ে দায়িত্ব পালন ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি বিধিসম্মত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
গারাঙ্গিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নূরুল আজিম জানান, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা কথিত অনিয়মের বিষয়ে নিজের প্রশাসনিক শিথিলতা বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষকের একই সময়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ নেই। এটি সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
তদন্তের দায়িত্বে থাকা উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা আনওয়ার হোসেন পলাশ জানান, এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী পরিচালক নাদিয়া মাহমুদ বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষকের একই সময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা বা আর্থিক সুবিধা নেওয়া এমপিও নীতিমালা ও প্রচলিত বিধিমালার লঙ্ঘন হতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে গারাঙ্গিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন অভিভাবক। তাঁদের অভিযোগ, ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা না থাকায় কিছু শিক্ষক নির্ধারিত সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ করেন না। নিয়মিত নজরদারি ও জবাবদিহির অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও তাঁদের দাবি।
একই সময়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে এখন তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে কী উঠে আসে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।