জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের পুনর্গঠন আসছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। অন্যদিকে, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন নিজ নিজ পদে বহাল থাকছেন।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুনর্গঠিত কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অথবা বুধবার নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
এনসিপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোয় ১১টি শীর্ষ পদ দলটির ‘সুপার ইলেভেন’ নামে পরিচিত। কমিটি পুনর্গঠনের পর শীর্ষ নেতৃত্বের কাঠামো ছোট করে ছয়জনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। দলীয় নেতাদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে নেতৃত্বকে আরও গতিশীল করা এবং দায়িত্ব বণ্টনে কার্যকারিতা বাড়ানো হবে।
দলীয় সূত্র বলছে, দল গঠন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে চার নেতার ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। শুরু থেকেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দলের মুখ্য সমন্বয়ক, হাসনাত আবদুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটিতে যোগ দিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পান সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
এনসিপির তিন কেন্দ্রীয় নেতার বরাত দিয়ে জানা গেছে, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদে বর্তমানে ১৬ জন সদস্য রয়েছেন। আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদাধিকারবলে এই পর্ষদের সদস্য। পুনর্গঠিত কাঠামোয় পাটওয়ারী, হাসনাত, সারজিস ও আসিফ শীর্ষ পদে থাকবেন। পর্ষদের অন্য ১০ সদস্যকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাঁরা হলেন আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহউদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।
দলীয় সূত্র জানায়, যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিবদের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁরা মূলত সহযোগী সংগঠন ও দলের বিভিন্ন সেলের কার্যক্রম তদারক করবেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের ভাষ্য, দলটি প্রথমে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছিল। পরে নতুন অনেকে যুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন পদ তৈরি করা হয়। দীর্ঘদিনের এই কাঠামো এখন পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
নেতাদের কার্যক্রম ও সক্রিয়তা বিবেচনায় নিয়েই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, দলের কেউ কেউ নিজেদের কাজের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন, আবার কেউ কেউ তুলনামূলকভাবে সক্রিয় ছিলেন না।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত জানুয়ারিতে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের আলোচনা সামনে আসে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে দলকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য ছিল ওই উদ্যোগের। পাশাপাশি ২০২৭ সালের শুরুতে দলের প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন নেতারা।
তবে পুনর্গঠিত কমিটির আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশের পরই নতুন পদ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হবে।