চট্টগ্রামে জাল স্বাক্ষরে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার মামলায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহ আলমকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখা থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগে শাহ আলম ও তাঁর ছেলে এস এম পারভেজ আলমের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে শাহ আলম ও তাঁর ছেলে তিন সহোদরের স্বাক্ষর জাল করে চারটি ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব গ্যারান্টিনামায় প্রত্যেকের নামে ২৫ কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়।
পরে ওই নথি ব্যবহার করে ২০১২ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে পাঁচটি এলটিআর ও একটি সিসি (হাইপো) ঋণ সুবিধার বিপরীতে ২৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৮২ টাকা ঋণ নেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণের বিপরীতে মাত্র ৮ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৮ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের ১১ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার ৭১২ টাকা।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক এইচ এম আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসেন জানান, সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত শাহ আলমকে বিভিন্ন ধারায় কারাদণ্ড দিয়েছেন। এর মধ্যে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় তিন বছর, ৪৬৭ ধারায় পাঁচ বছর, ৪৬৮ ধারায় তিন বছর এবং ৪৭১ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাঁকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।