লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও মেহেদী হাসান মিরাজের অর্ধশতকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে বড় জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড থাকায় আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪৭৯ রান।
সোমবার টেস্টের চতুর্থ দিনে লিটন ও মিরাজের ব্যাটে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে দলটি। দিনের প্রথম সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১১৪ রান যোগ করেন লিটন ও মিরাজ। দুজনের সপ্তম উইকেটের জুটিতে আসে ১৪৯ রান।
লিটন ১১৫ বলে ১০২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৪টি চার। ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর মোহাম্মদ সালেমের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিলের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
অন্যদিকে মিরাজ ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ১১তম টেস্ট অর্ধশতকের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার। মিরাজের ফিফটির পরের ওভারেই সেঞ্চুরিতে পৌঁছান লিটন। এরপর লিটন আউট হলে অধিনায়কের সিদ্ধান্তে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
লিটনের ভাগ্য ও ব্যাটিংয়ে উজ্জ্বলতা
সেঞ্চুরির পথে দুবার জীবন পান লিটন। দুবারই আফগান লেগস্পিনার কায়েস আহমেদের বলে ক্যাচের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ব্যক্তিগত ১৪ রানে স্লিপে তাঁর ক্যাচ নিতে পারেননি শাহিদউল্লাহ কামাল। পরে ২৬ রানে নিজের বলে ক্যাচ নেওয়ার সুযোগ হারান কায়েস। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনিংস বড় করেন লিটন।
প্রথম ইনিংসেও লিটন করেছিলেন ৫৩ রান। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর সেঞ্চুরি বাংলাদেশের লিড আরও বাড়িয়ে দেয়। টেস্টে এটি তাঁর সপ্তম শতক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি।
আফগানিস্তানের শুরুতেই ধাক্কা
৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়েছে আফগানিস্তান। ইবাদত হোসেন প্রথম বলেই আবদুল মালিককে ফিরিয়ে দেন। এরপর হাসান মাহমুদের বলে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শাহিদউল্লাহ। ২৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
আবদুল মালিকের উইকেট নিয়ে টেস্টে ৫০ উইকেট পূর্ণ করেন ইবাদত হোসেন। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে তাঁর চেয়ে বেশি টেস্ট উইকেট রয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজা, শাহাদাত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৮ রান। জয়ের জন্য তাদের এখনও প্রয়োজন ৪৫১ রান। অন্যদিকে বড় লক্ষ্য দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।