
রোববার (১১ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি খাতে হামলা বন্ধে সমঝোতা হয়েছে। দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি চুক্তিটি মেনে চলার আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইউক্রেনের অবস্থান তুলে ধরে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করে। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও একই ধরনের সদিচ্ছা থাকা জরুরি। প্রস্তাবিত সমঝোতার শর্ত ও কার্যকর করার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ।
এদিকে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ট্রাম্প। শনিবার দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইউক্রেনের এসব স্থাপনায় হামলা বন্ধ করা উচিত। একই সঙ্গে ইউক্রেনে নতুন নির্বাচন আয়োজনের কথাও বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, মস্কোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করেছেন জেলেনস্কি।
ট্রাম্পের এসব বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টাপাল্টি হামলা আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতির শর্ত, কার্যকর হওয়ার সময়সীমা এবং দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক সম্মতির বিষয়ে বিস্তারিত স্পষ্ট না হওয়ায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পর এ সমঝোতার প্রকৃত পরিধি আরও পরিষ্কার হতে পারে।