নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নতুন ঠিকানা হয়েছিল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের বান্ডইল সীমান্ত পাড়া। প্রায় ৩০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন অর্ধশতাধিক পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ। কিন্তু এত বছরেও তৈরি হয়নি প্রধান সড়কের সঙ্গে সংযোগের কোনো পাকা রাস্তা। ফলে গ্রামবাসীর নিত্যদিনের চলাচল থেকে শুরু করে জরুরি চিকিৎসা—সবকিছুতেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
জয়পুরহাট-বগুড়া প্রধান সড়ক থেকে বান্ডইল সীমান্ত পাড়া গ্রামের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। এই পথের বড় অংশই বগুড়া সীমান্তঘেঁষা নুনগোলা খালের পাড়ের কাঁচা হাঁটাপথ। বর্ষায় পথটি কাদায় পরিণত হয়, আর শুকনো মৌসুমেও যানবাহন চলাচলের উপযোগী থাকে না।
ফলে গ্রামের বাসিন্দাদের প্রধান সড়কে উঠতে দীর্ঘ পথ হেঁটেই যেতে হয়। শিশু, বয়স্ক, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ মানুষের জন্য এই পথ পাড়ি দেওয়া আরও কঠিন।
বান্ডইল সীমান্ত পাড়ার সবচেয়ে বড় সংকট জরুরি চিকিৎসা। গ্রামে কোনো যানবাহন ঢুকতে না পারায় গুরুতর অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে হলে কাঠের পাটাতন বা বাঁশের ভারই হয়ে ওঠে ভরসা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোগীকে এভাবে কাঁচা রাস্তা দিয়ে মূল সড়কে নেওয়ার পর যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হয়। এতে জরুরি সময়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হয়। এমনকি সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় মাঝপথে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা নাছি বেগম বলেন, “জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নিতে হলে মেয়েকে কীভাবে নেব? রাস্তা নেই, যানবাহন নেই। কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, দ্রুত রাস্তাটি করে দিন।”
গ্রামবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আর দেখা যায় না।
তিন দশক ধরে একই দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে বর্ষায় কাদা, শুষ্ক মৌসুমে ধুলা আর জরুরি সময়ে রোগী বহনের কষ্ট—সবই যেন বান্ডইলবাসীর নিত্যসঙ্গী।
স্থানীয় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মোর্শেদ ইসলাম বলেন, প্রায় ১২০ জন ভোটারসহ দুই শতাধিক মানুষ এই এলাকায় বসবাস করেন। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক চলাচলের জন্য রাস্তাটি নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত সড়ক নির্মাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তবে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের মধ্যে কিছুটা আশার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।
কালাই উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ জানান, জয়পুরহাট-বগুড়া সড়ক থেকে বান্ডইল গ্রাম পর্যন্ত রাস্তাটি কিছুদিন আগে গেজেটভুক্ত (আইডিভুক্ত) হয়েছে। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
তবে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে কবে বাস্তবে কাজ শুরু হবে, সেই অপেক্ষায় বান্ডইল সীমান্ত পাড়ার মানুষ।
তিন দশকের বসতি, অর্ধশতাধিক পরিবার আর দুই শতাধিক মানুষের বসবাস—তবু প্রধান সড়কে ওঠার পথ নেই। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দীর্ঘ অপেক্ষা পেরিয়ে এবার একটি স্থায়ী সড়কই চান বান্ডইলবাসী।